করোনা আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়ছে!

স্টাফ রিপোর্টার, আউটলুকবাংলা ডটকম

এতদিন মা-বাবারা খানিকটা দুশ্চিন্তামুক্ত থাকলেও সাম্প্রতিক হিসাব বলছে, সময় হয়েছে আরও সাবধানতার। ঢাকা শিশু হাসপাতালে এখন পর্যন্ত ৩৯৫ জন শিশু করোনায় শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষা হয়েছিল তিন হাজার ২০০ জনের। বহির্বিভাগে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছিল ৮৩৩ শিশুর। শনাক্ত হয়েছে ১৭০ জন। ২০ নভেম্বর একদিনে পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে ১০ শিশুর।

অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে শিশু হাসপাতালের করোনা আক্রান্ত রোগী ছিল ১০। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সেটা হয়েছে ১৬। অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে ছিল পাঁচ আর নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে ২৩ জন।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু করোনা ইউনিটে এখন রোগী আছে ২৩ জন। একমাস আগেও ছিল ১২-১৩ জন।

ঢাকা শিশু হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা যায়, এ হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া শিশুর সংখ্যা ১৪ জন। এই ১৪ জনের ভেতর চারজন করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। বাকিরা অন্যান্য যে সব শারীরিক সমস্যা নিয়ে এসেছিল সেসব রোগে মারা গেছে। তবে তারা করোনাতেও আক্রান্ত ছিল।

‘এটা এখনই বলা যাচ্ছে না যে এসব শিশু শুধু করোনাতেই মারা গেছে। কিন্তু যেহেতু করোনা আক্রান্ত ছিল তাই এই তালিকাতেই রাখতে হবে।’ বললেন ঢাকা শিশু হাসপাতালের রোগতত্ত্ববিদ ডা. কিংকর ঘোষ।

আবার যখন শিশু হাসপাতালে করোনার চিকিৎসা শুরু হয়নি, কিন্তু করোনার উপসর্গ নিয়ে রোগী এসেছিল, তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। তখন কিন্তু এমন অনেক শিশু রোগীর ফলোআপ আমরা পেয়েছি। তাদের পরিবারগুলো হাসপাতালে না নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। এমন ৬টি শিশু পরে বাসায় মারা গেছে।

১৩ জুলাই শিশু হাসপাতালে কোভিড ওয়ার্ড চালু হয়। এখন পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়েছে ১০৬টি শিশু। বেশিরভাগেরই বয়স পাঁচ বছরের নিচে।

সম্প্রতি চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিএইচআরএফ) ও শিশু হাসপাতাল যৌথ উদ্যোগে এক গবেষণা করে ২৮ দিনের কম বয়সী শিশুদের নিয়ে। মার্চের শুরু থেকে ৮৪টি শিশুকে নিয়ে করা এ গবেষণায় দেখা যায় ২৬ জন শিশুর করোনা শনাক্ত হয়। এর মধ্যে মারা গেছে ৮ জন। এই ৮ জনের ভেতর ৪ জনই অপুষ্টিতে ভুগছিল।

শিশুরা কেন এত আক্রান্ত হচ্ছে জানতে চাইলে ডা. কিংকর ঘোষ বলেন, ‘পাঁচ বছরের কম বয়সীরা কিন্তু সাধারণত বাড়ির বাইরে যায় না, বেশিরভাগ আক্রান্ত হচ্ছে পরিবারের অন্য সদস্যদের মাধ্যমে। যদিও শিশুদের মৃত্যুহার খুব কম, সুস্থও হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু তাদের মাধ্যমে আবার বাড়ির বৃদ্ধরা আক্রান্ত হচ্ছেন।’

‘আবার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর সেখান আক্রান্ত হচ্ছে কীনা সেটাও খুঁজে দেখা দরকার।’ জানালেন ডা. কিংকর।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সাঈদা আনোয়ার জানালেন, ‘১০ মে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শিশু ইউনিট ১৪ বেড দিয়ে শুরু করলেও এখন সেখানে বেড রয়েছে ৪২টি। ‘

অধ্যাপক ডা. সাঈদা আনোয়ার বলেন, এই ইউনিটে ৫-১২ বছরের বয়সী শিশুর সংখ্যাই বেশি। তিন থেকে চার দিনের নবজাতকদেরও এখানে ভর্তি করা হয়েছে। কোভিড আক্রান্ত মায়ের সংর্স্পশে থাকার কারণেই নবজাতকরা আক্রান্ত হচ্ছেন বলে জানান তিনি।

এখন পর্যন্ত এই ইউনিটে ভর্তি হয়েছে দেড় হাজারের বেশি শিশু। তবে এর মধ্যে মৃত্যুহার শতকরা দুই দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনা বিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে (২০ নভেম্বর) জানানো হয়েছে, নবজাতক থেকে ১০ বছরের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩০ শিশু মারা গেছে। ১১-২০ বছরের মধ্যে মারা গেছে ৫০ জন। শতকরা হিসাবে যা শূন্য দশমিক ৪৭ ও শূন্য দশমিক ৭৯ শতাংশ।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)-এর উপদেষ্টা ও মহামারি বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘আইইডিসিআর জানিয়েছে শূন্য থেকে ১০ বছরের শিশুর আক্রান্তের সংখ্যা শতকরা তিন। অর্থাৎ ১০০ জনে ৩ জন শিশু আক্রান্ত হচ্ছে আর মারা যাচ্ছে হাজারে ৩ জন।

যে কোনও বয়সের মানুষ আক্রান্ত হতে পারে মন্তব্য করে ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, পরিবারের অন্য সদস্যদের মাধ্যমে তারা আক্রান্ত হচ্ছে কিনা সেটাই মূল কথা।

ডা. মুশতাকের পরামর্শ হলো, পরিবারের অন্য সদস্যদের বাইরে থেকে আসার পর বিশেষ করে মায়েরা বাইরে থেকে এসে শিশুদের স্পর্শ করার আগে সাবান পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিতে হবে। গোসল করে নিলে আরও ভালো।

আরো