মেয়র তাপস-খোকনের বক্তব্য সরকারের দুর্নীতির চিত্র

স্টাফ রিপোর্টার, আউটলুকবাংলা ডটকম

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস ও সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তাদের কথায় বর্তমান সরকারের দুর্নীতির পুরো চিত্র উঠে এসেছে।

তিনি বলেন, ওবায়দুল কাদেরের ভাইয়ের বক্তব্য এবং মেয়র তাপস ও খোকনের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে সরকারের চেহারা জনগণের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে। এক যুগ ক্ষমতা দখল করে আওয়ামী লীগ যে লুটপাট চালিয়েছে, সেটি সামনে এসেছে দলটির নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যে।

রোববার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

শনিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভার বৈঠকের সিদ্ধান্ত ও আলোচনা আজকের সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে করা রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় অভিযোগ গঠন ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে আগামী বুধবার সারা দেশে জেলা ও মহানগরে প্রতিবাদ সমাবেশ-মানববন্ধনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি। এই মামলা ও অভিযোগ গঠন বিএনপিকে নেতৃত্বশূন্য করার চেষ্টা বলে জানান মির্জা ফখরুল।

সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল বলেন, ভার্চুয়াল সভায় বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় তাঁর অনুপুস্থিতিতে চার্জ গঠন ও ওয়ারেন্ট জারির তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানানো হয়।

তিনি বলেন, শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে ১/১১ এর মইনুদ্দিন ও ফখরুদ্দিনের অবৈধ সরকারের ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগের অবৈধ সরকার বাংলাদেশে বিরাজনীতিকরণের প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছে। সে লক্ষ্যে গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা, বানোয়াট মামলায় কারারুদ্ধ করেছে। একইভাবে বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপর শারীরিক নির্যাতন করে নির্বাসিত করেছে এবং অসংখ্য মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে দূরে রাখা হয়েছে। বিএনপিকে নেতৃত্বশূন্য করার হীন প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বলেও গতকালকের ভার্চুয়াল সভায় উল্লেখ করা হয়।

ফখরুল বলেন, এই হীন অপচেষ্টার প্রতিবাদে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের চার্জ গঠন ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে আগামী বুধবার (১৩ জানুয়ারি) সারাদেশে জেলা ও মহানগর পর্যায়ে প্রতিবাদ সমাবেশ অথবা মানববন্ধন কর্মসূচির পালন করবে।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারিতে বাংলাদেশের সংবিধান লঙ্ঘন করে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয় বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।

তিনি বলেন, ১/১১ এর বেআইনি সরকার পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে ভেঙে দিয়ে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা প্রদানের নীলনকশা বাস্তবায়ন করে। আজকের অনির্বাচিত আওয়ামী লীগ সরকার তারই ধারাবাহিকতায় এদেশের মানুষের আকাঙ্খিত গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। একদলীয় ফ্যাসিবাদী শাসন জনগণের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে। গণতান্ত্রিক সকল প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে। বিনা নির্বাচনে পার্লামেন্ট, বিচার বিভাগ ও প্রশাসনকে দলীয়করণ করেছে। মানবাধিকার, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ভূলুণ্ঠিত। দুর্নীতি ও সন্ত্রাস চরমভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

আরো