লকডাউনে লেনদেন: ব্যাংকে আড়াই পুঁজিবাজারে ২ঘণ্টা

স্টাফ রিপোর্টার, আউটলুকবাংলা ডটকম

লকডাউন চলাকালীন সময়ের জন্য নির্ধারিত ব্যাংক লেনদেনের সময়সূচির সঙ্গে মিল রেখে পুঁজিবাজারে লেনদেনের সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। আগামীকাল সোমবার থেকে ১১ই এপ্রিল পর্যন্ত প্রতি কার্যদিবসে পুঁজিবাজারে সাড়ে ৪ ঘণ্টার পরিবর্তে ২ ঘণ্টা লেনদেন হবে। সকাল ১০টায় লেনদেন শুরু হবে। তা চলবে বেলা ১২টা পর্যন্ত। আজ রোববার পর্যন্ত পুঁজিবাজারে লেনদেনের সময়সূচি ছিল সকাল ১০ টা থেকে বেলা ২ টাকা ৩০ মিনিট পর্যন্ত।

এদিকে লকডাউন চলাকালীন সময়ে ব্যাংক লেনদেনের সময়সূচি নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার থেকে ১১ই এপ্রিল পর্যন্ত প্রতি কার্যদিবসে ব্যাংকে আড়াই ঘণ্টা লেনদেন হবে। সকাল ১০টায় লেনদেন শুরু হবে। আর বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তা চলবে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে, উল্লেখ, করোনাভাইরাস পরিস্থিতির অবনতির মুখে সরকার আগামীকাল সোমবার (৫ই এপ্রিল) থেকে এক সপ্তাহের জন্য সারাদেশে লকডাউন ঘোষণা করেছে। লকডাউন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং কার্যক্র পরিচালনার কথা বলা হয়। এর আলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক লেনদেনের নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করে। এই সূচি অনুসারে, আগামী ৫ই এপ্রিল থেকে ১১ই এপ্রিল পর্যন্ত প্রতি কার্যদিবসে সকাল ১০ টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ব্যাংকে লেনদেন চলবে। এর আগের সময়সূচি ছিল সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। ব্যাংক লেনদেনের পরিবর্তিত সময়সূচির সঙ্গে মিল রেখে বিএসইসি পুঁজিবাজারে লেনদেনে নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করে।

ব্যাংকে লেনদেন চলবে আড়াই ঘণ্টা

জানা গেছে, করোনাভাইরাসের প্রকোপ মোকাবিলায় ঘোষিত লকডাউন চলাকালীন সময়ে ব্যাংক লেনদেনের সময়সূচি নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামীকাল সোমবার থেকে ১১ই এপ্রিল পর্যন্ত প্রতি কার্যদিবসে ব্যাংকে আড়াই ঘণ্টা লেনদেন হবে। সকাল ১০টায় লেনদেন শুরু হবে। আর বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তা চলবে।

লকডাউনের জন্য ব্যাংকিংয়ের নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করে আজ রোববার একটি সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ইতিমধ্যে এই সার্কুলার দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক/প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।

ব্যাংকিং ব্যবস্থা সীমিত পরিসরে চালু রাখার বিষয়ে জারি করা নির্দেশনাগুলো হলো-

১) ৫ই এপ্রিল থেকে ১১ই এপ্রিল পর্যন্ত সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত দৈনিক ব্যাংকিং লেনদেনের সময়সূচি সকাল ১০টা হতে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে লেনদেন পরবর্তী আনুষঙ্গিক কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখা এবং প্রধান কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ প্রয়োজনে দুপুর ২টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে।

২) এ সময়ে লেনদেন চলাকালীন নির্দেশনা হলো-

ক. ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও শাখাসমূহে জরুরি ব্যাংকিং সেবা প্রদান অব্যাহত/নির্বিঘ্ন রাখার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় জনবলের বিন্যাস ও উপস্থিতির বিষয়টি ব্যাংক স্বীয় বিবেচনায় সম্পন্ন করবে। এক্ষেত্রে শাখার নিকটবর্তী স্থানে বসবাসরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতির বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা যেতে পারে। জনস্বার্থে ব্যাংকিং সেবা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি ও অফিসের কর্মপরিবেশে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ সংক্রান্ত সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা যথাযথভাবে পরিপালনের বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।

খ. গ্রাহকদের হিসাবে সর্বপ্রকার জমা এবং উত্তোলন, ডিমান্ড ড্রাফট/পে-অর্ডার ইস্যু ও জমা গ্রহণ, ট্রেজারি চালান গ্রহণ, সরকারের বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমের আওতায় প্রদত্ত ভাতা/অনুদান বিতরণ, বৈদেশিক রেমিট্যান্সের অর্থ পরিশোধ, অভ্যন্তরীণ ও আন্তঃশাখা অর্থ স্থানান্তর, এনআরবি বন্ডে এবং বিভিন্ন প্রকার জাতীয় সঞ্চয় সার্টিফিকেটের মেয়াদপূর্তিতে নগদায়ন ও কুপনের অর্থ পরিশোধ, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ইউটিলিটি (যথা: গ্যাস/পানি/ বিদ্যুৎ/টেলিফোন) বিল গ্রহণসহ বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক চালু রাখা বিভিন্ন পেমেন্ট সিস্টেমের/ক্লিয়ারিং ব্যবস্থার আওতাধীন অন্যান্য লেনদেন সুবিধা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।

গ. নগদ জমা ও উত্তোলনের জন্য অনলাইন সুবিধা সংবলিত ব্যাংকসমূহের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের লেনদেনের সার্বিক সুবিধা নিশ্চিত করে সিটি করপোরেশন ও জেলা সদরে কার্যরত যেসব ব্যাংকের দুই কিলোমিটারের মধ্যে একাধিক শাখা রয়েছে, সেক্ষেত্রে সুবিধাজনক একটি শাখা (অথরাইজড ডিলার শাখা ব্যতীত) হতে গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করার শর্তে অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে। তবে বন্ধকৃত শাখার গ্রাহকগণের গ্রাহক সেবা প্রাপ্তি বিষয়ে অবহিত করতে উক্ত শাখার দৃশ্যমান স্থানে তা বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রদর্শন নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া, অনলাইন সুবিধা বহির্ভূত ব্যাংকের অন্যান্য শাখা খোলা রাখতে হবে।

ঘ. বিশেষ ব্যবস্থাধীনে ইতঃপূর্বে মঞ্জুরিকৃত এবং বিতরণের অপেক্ষায় থাকা ঋণের অর্থ ছাড়করণ, বিভিন্ন প্রণোদনাগুচ্ছের আওতাধীন কার্যক্রম, শ্রমঘন শিল্প এলাকায় শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে যাবতীয় ঋণ নিয়মাচার পরিপালনপূর্বক রফতানি বিল ক্রয়, ঋণ মঞ্জুর ও বিতরণ অব্যাহত রাখতে হবে।

ঙ. গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি বৈদেশিক লেনদেন সম্পাদনের জন্য বৈদেশিক বাণিজ্য (অথরাইজড ডিলার) শাখাসমূহেও লেনদেন অব্যাহত রাখতে হবে।

চ. সমুদ্র/স্থল/বিমান বন্দর এলাকায় (পোর্ট ও কাস্টমস এলাকা) অবস্থিত ব্যাংকের শাখা/উপ-শাখা/বুথসমূহ সার্বক্ষণিক খোলা রাখার বিষয়ে আগস্ট ৫, ২০১৯ এ জারিকৃত ডিওএস সার্কুলার লেটার নং-২৪ অনুসারে স্থানীয় প্রশাসনসহ বন্দর/কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনাক্রমে স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন নিশ্চিতপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৩) এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের লেনদেন সময়সূচি ও কার্যক্রম বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকসমূহ স্বীয় বিবেচনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

৪) এটিএম ও কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন চালু রাখার সুবিধার্থে এটিএম বুথগুলোতে পর্যাপ্ত নোট সরবরাহসহ প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ইন্টারনেট ব্যাংকিং সুবিধা সার্বক্ষণিক চালু রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এটিএম বুথগুলোতে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষা/স্যানিটাইজেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

৫) পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত ব্যাংকের সান্ধ্যকালীন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সাপ্তাহিক ছুটিকালীন ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হলো।