যে কারণে মন্দাতেও মিউচ্যুয়াল ফান্ডে ঝুঁকছে বিনিয়োগকারীরা

অনলাইন ডেস্ক, আউটলুকবাংলা ডটকম

গত বছরের ২ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুঁজিবাজারে সূচক বাড়ে ৯৭৭ পয়েন্ট। এই সময়ে তালিকাভুক্ত মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর বেশির ভাগই ব্যাপক মুনাফা করে।

ইউনিটপ্রতি দাম পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ টাকা ছিল যেগুলোর, সেগুলো ইউনিটপ্রতি দেড় টাকা বা তার চেয়ে বেশি মুনাফা করার ঘটনাও ঘটে।

পরের প্রান্তিকে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সূচক বাড়ে আরও ৫৪০ পয়েন্ট। এই সময়েও ফান্ডগুলো ইউনিটপ্রতি বেশ ভালো মুনাফা করে। আগের প্রান্তিকের চেয়ে কম হলেও এই সময়েও কোনো কোনো ফান্ড ইউনিটপ্রতি দেড় বা দুই টাকা মুনাফা করে।

তবে গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত বাজারে ছন্দপতন ঘটে। এই প্রান্তিকে সূচক পড়ে ৩৪০ পয়েন্ট।

তবে বাজারে পতন হলেও মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো লোকসান দিয়েছে এমন নয়। এই প্রান্তিকে ৩৭টি ফান্ডের মধ্যে মুনাফা করেছে ২৭টি। বাকি ১০টির মধ্যে দুটি ফান্ড বড় অঙ্কের লোকসান দিয়েছে।

আর আটটি ফান্ড ইউনিটপ্রতি এক পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ১৪ পয়সা লোকসান করে। তবে আগের দুই প্রান্তিকে বিপুল পরিমাণ মুনাফার কারণে তৃতীয় প্রান্তিক শেষে বেশ ভালো অঙ্কের আয় করায় এবার লোভনীয় লভ্যাংশের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

লভ্যাংশের ক্ষেত্রে আশা দেখাচ্ছে এপ্রিল থেকে বাজারে দেখা দেয়া চাঙ্গাভাব। গত ১১ এপ্রিল থেকে ১৭ মে পর্যন্ত পুঁজিবাজারে সূচক বেড়েছে ৬৪০ পয়েন্ট। ফলে এটা ধরাই যায় যে, এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সমাপ্ত অর্থবছরের প্রথম দেড় মাসে ফান্ডগুলো বেশ ভালো মুনাফা করেছে। ফলে বাকি দেড় মাসে বাজারে বড় পতন না হলে জুন ক্লোজিংয়ে ভালো লভ্যাংশ দেবে-এটা ধরা যায়।

পুঁজিবাজারে ৩৭টির মধ্যে জুনে অর্থবছর গণনা করে লভ্যাংশ ঘোষণা করে-এমন ফান্ডের সংখ্যা ৩০টি। এর মধ্যে ২৮টি ফান্ডই মুনাফায় আছে। দুটি লোকসানে।

ফলে গত ১০ বছরে ভালো লভ্যাংশ দিতে না পারা ফান্ডগুলো এবার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের।

অন্য শেয়ারের সঙ্গে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লভ্যাংশ বিতরণের ক্ষেত্রে নীতিমালায় পার্থক্য আছে। যেকোনো শেয়ার যতই আয় করুক, তার কত অংশ বিনিয়োগকারীদের মুনাফা হিসেবে দিতে হবে, তার কোনো আইন নেই। কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। বার্ষিক সাধারণ সভায় বিনিয়োগকারীদের মতামত দেয়ার সুযোগ থাকে। যদিও তাদের মতামতে লভ্যাংশ পাল্টেছে, এমন ঘটনা বিরল।

অন্যদিকে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে নীতিমালা অনুযায়ী যত আয় হবে তার ৭০ শতাংশ লভ্যাংশ হিসেবে দিতে হবে। মাঝে লভ্যাংশ হিসেবে নগদ অর্থের পাশাপাশি রিইনভেস্টমেন্ট হিসেবে ইউনিট দেয়ার সুযোগ থাকলেও পরে তা বাতিল করা হয়েছে।

এর মধ্যে ভ্যানগার্ড এএমএল রূপালী ব্যাংক ব্যালান্সড ফান্ড আয়ের ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির বিশেষ অনুমতি নিয়ে। এই ফান্ডটি গত বছর ব্যাপক লোকসান করেছিল এবং তাদের সেই লোকসানের সঞ্চিতি সংরক্ষণ করা হয়েছে গত ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরের আয়ে। এতে ফান্ডের মৌলভিত্তি শক্তিশালী হয়েছে বলে মনে করে বিএসইসি।

মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে পুঁজিবাজারে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর সমিতি মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ছায়েদুর রহমান বলেন, ‘মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো সম্প্রতি সময়ে ভালো আয় করেছে। এটা সত্য। এর একমাত্র এটার উপর ভিত্তি করেই বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেয়া যায়।

‘মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বর্তমানে যে আয় তাতে কোনো ঝুঁকি ছাড়াই সিংহভাগে বিনিয়োগ করা যায়।’ অবশ্য ফান্ডগুলো যখন খারাপ করছিল, তখন বিনিয়োগকারীরা মুখে ফিরিয়ে নেয়ায় ফান্ডের বাজার মূল্যে ব্যাপক পতন হলেও যখন ভালো করছে, তখন দাম সেভাবে বাড়ছে না।

আয় ভালো হওয়ার পরও কেন বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী হচ্ছে না এর কারণ ব্যাখ্যায় ছায়েদুর রহমান বলেন, ‘বিনিয়োগকারীরা এখন দ্রুত মুনাফা নিতে চায়। তারা শেয়ার কিনে সঙ্গে সঙ্গে মুনাফার হিসাব করে। কিন্ত মিউচ্যুয়াল ফান্ড কখনও বিনিয়োগকারীদের এভাবে মুনাফা দেবে না। এখানে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ হবে। বছর শেষে ভালো মুনাফা পাবে।’

প্রান্তিকের ঘোষণা যে ইঙ্গিত দিচ্ছে

তালিকাভুক্ত ৩৭টি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৩৫টি মার্চের প্রান্তিক ঘোষণা করেছে। আর দুটি ফান্ড মার্চে অর্থবছর শেষে ঘোষণা করেছে লভ্যাংশ।

যে চারটি ফান্ড এখন পর্যন্ত লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, তার প্রতিটিই এবার ব্যাপক মুনাফা করেছে। সর্বনিম্ন মুনাফা করা ফান্ডও ইউনিটপ্রতি এক টাকা ১২ পয়সার বেশি আয় করেছে।

১০ টাকার নিচে দাম এমন ফান্ডও এক টাকার বেশি লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আর একটি ফান্ড এক টাকা ৬২ পয়সা আয় করেও কেবল ১৬ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, যদিও এটি মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের নীতিমালার পরিপন্থি।

জুন ক্লোজিং ফান্ডগুলোর তিন প্রান্তিক শেষে মুনাফায় যেগুলো

গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এক হাজার ৬১৭ পয়েন্ট সূচক বাড়ার পর ফার্স্ট জনতা মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিটপ্রতি আয় করে ১ টাকা ৬১ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে ৫ পয়সা মুনাফা করার পর তৃতীয় প্রান্তিক শেষে আয় দাঁড়িয়েছে এক টাকা ৬৬ পয়সা।

এবি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিটপ্রতি আয় করে ১ টাকা ৯৫ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে ১৩ পয়সা লোকসান দেয়ার পরও তাদের আয় এক টাকা ৮২ পয়সা।

এশিয়ান টাইগার মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দ্বিতীয় প্রান্তিক শেষে ইউনিটপ্রতি আয় ছিল ৭৮ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে ৬১ পয়সা যোগ হওয়ায় নয় মাসের আয় দাঁড়িয়েছে এক টাকা ৩৯ পয়সা।

সিএপিএম বিডিবিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ান বছরে প্রথম ছয় মাসে ইউনিটপ্রতি আয় করে এক টাকা ৮ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে মন্দা বাজারেও আয় বাড়ে আরও ১২ পয়সা। নয় মাস শেষে আয় দাঁড়িয়েছে এক টাকা ২০ পয়সা।

সিএপিএম আইবিবিএল ইসলামিক মিউচ্যুয়াল ফান্ড ছয় মাসে ইউনিটপ্রতি আয় করে এক টাকা দুই পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে পতনের মধ্যেও তাদের আয় বাড়ে ১৭ পয়সা। সব মিলিয়ে নয় মাসে ইউনিটপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে এক টাকা ১৯ পয়সা।

ইবিএল ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড ছয় মাসে ইউনিটপ্রতি আয় করে এক টাকা ৬২ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে আয় হয় আরও ৯ পয়সা। সব মিলিয়ে নয় মাসে আয় দাঁড়িয়েছে এক টাকা ৭১ পয়সা।

ইবিএল এনআরবি মিউচ্যুয়াল ফান্ড ছয় মাসে ইউনিটপ্রতি আয় করে এক টাকা ৮৪ পয়সা। মন্দা বাজারে তৃতীয় প্রান্তিকে ১ পয়সা করে লোকসান হলেও নয় মাসে আয় দাঁড়িয়েছে এক টাকা ৮৩ পয়সা।

এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড ছয় মাসে ইউনিটপ্রতি আয় করে এক টাকা ৬০ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে যোগ হয় আরও ১০ পয়সা। সব মিলিয়ে নয় মাসে আয় দাঁড়িয়েছে এক টাকা ৭০ পয়সা।

এফবিএফআইএফ ইনকাম ফান্ড ছয় মাসে ইউনিটপ্রতি আয় করে এক টাকা ৭৬ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে এক পয়সা লোকসান হলেও নয় মাস শেষে আয় দাঁড়িয়েছে এক টাকা ৭৫ পয়সা।

গ্রামীণ ওয়ান স্কিম টু মিউচ্যুয়াল ফান্ড বছরের প্রথম ছয় মাসে ইউনিটপ্রতি আয় করে চার টাকা দুই পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে এসে লোকসান করে ১০ পয়সা। নয় মাসে আয় দাঁড়িয়েছে তিন টাকা ৫১ পয়সা।

আইসিবি এএমসিএল থার্ড এনআরবি মিউচ্যুয়াল ফান্ড বছরের প্রথম ছয় মাসে ইউনিটপ্রতি আয় করে ১৭ পয়সা, আর তৃতীয় প্রান্তিকে ৮ পয়সা। নয় মাসে ইউনিটপ্রতি আয় হয় ২৫ পয়সা।

আইসিবি এএমসিএল ফার্স্ট অগ্রণী ব্যাংক মিউচ্যুয়াল ফান্ড বছরের প্রথম ছয় মাসে ইউনিটপ্রতি আয় করে ২৫ পয়সার কিছু বেশি। তৃতীয় প্রান্তিকে আরও চার পয়সার বেশি আয় হওয়ার পর নয় মাসে আয় দাঁড়িয়েছে ৩০ পয়সা।

আইসিবি এএমসিএল সেকেন্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ড বছরের প্রথম ছয় মাসে ইউনিটপ্রতি আয় করে ১৫ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে আয় হয় আরও ১৬ পয়সা। সব মিলিয়ে নয় মাসে আয় হয়েছে ৩১ পয়সা।

আইসিবি এমপ্লয়ি প্রভিডেন্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ড-১ বছরের প্রথম ছয় মাসে ইউনিটপ্রতি আয় করে ১৫ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকেও আয় হয় ১৫ পয়সা। সব মিলিয়ে নয় মাসে ইউনিটপ্রতি আয় হয়েছেছে ৩০ পয়সা।

আইসিবি এএমসিএল সোনালী ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড বছরের প্রথম ছয় মাসে ইউনিটপ্রতি আয় করে ৩৬ পয়সার কিছু বেশি। তৃতীয় প্রান্তিকে আরও চার পয়সার কিছু বেশি আয় হওয়ার পর নয় মাসে আয় হয়েছে ৪১ পয়সা।

আইএফআইসি ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড বছরের প্রথম দুই প্রান্তিকে ইউনিটপ্রতি এক টাকা ৭২ পয়সা আর তৃতীয় প্রান্তিকে ৪ পয়সা মিলিয়ে নয় মাসে আয় দাঁড়িয়েছে এক টাকা ৭৬ পয়সা।

আইএফআইএল ইসলামী মিউচ্যুয়াল ফান্ড অবশ্য খুব একটা ভালো করতে পারেনি। বছরের প্রথম ছয় মাসে সাত পয়সা এবং তৃতীয় প্রান্তিকে চার পয়সা মিলিয়ে তারা ইউনিটপ্রতি আয় করেছে ১১ পয়সা।

এনএলআই ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড প্রথম দুই প্রান্তিকে আয় করে এক টাকা ৯৯ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে আয় হয় আরও ৯৭ পয়সা। তিন প্রান্তিক মিলিয়ে তাদের আয় ইউনিটপ্রতি দুই টাকা ৯৬ পয়সা।

ফিনিক্স ফিনান্স ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড প্রথম দুই প্রান্তিকে ইউনিটপ্রতি আয় করে ৯ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে হয় আরও ১৯ পয়সা। সব মিলিয়ে নয় মাসে ইউনিটপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ২৮ পয়সা।

পিএইচপি ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড বছরের প্রথম ছয় মাসে ইউনিটপ্রতি আয় করে এক টাকা ৬৭ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে মন্দা বাজারে আয় হয় আরও ৪ পয়সা। সব মিলিয়ে আয় দাঁড়িয়েছে এক টাকা ১৭ পয়সা।

পপুলার লাইফ ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড বছরের প্রথম দুই প্রান্তিকে ইউনিটপ্রতি আয় করে এক টাকা ৫২ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে ৮ পয়সা লোকসান দেয়ার পরেও তাদের নয় মাসে আয় এক টাকা ৪৪ পয়সা।

প্রাইম ব্যাংক ফার্স্ট আইসিবি এএমসিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড বছরের প্রথম ছয় মাসে ইউনিটপ্রতি আয় করে ৩৪ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে আয় হয় আরও ৭ পয়সা। সব মিলিয়ে আয় হয়েছে ৪১ পয়সা।

রিলায়েন্স ইন্সুরেন্স মিউচ্যুয়াল ফান্ড প্রথম দুই প্রান্তিকে ইউনিটপ্রতি আয় করে দুই টাকা ৩৪ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে আরও ৩৫ পয়সা যোগ হওয়ায় নয় মাসে আয় দাঁড়িয়েছে দুই টাকা ৬৯ পয়সা।

সাউথইস্ট ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড বছরের প্রথম ছয় মাসে আয় করে এক টাকা ৭৬ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে আয় হয় আরও ৮৩ পয়সা। সব মিলিয়ে নয় মাসে ইউনিটপ্রতি আয় দুই টাকা ৫৮ পয়সা।

এসইএমএল এফবিএলএসএল গ্রোফ ফান্ড প্রথম দুই প্রান্তিকে আয় করে ইউনিটপ্রতি এক টাকা ১ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে ৪৮ পয়সা যোগ হওয়ায় তিন প্রান্তিক শেষে আয় এক টাকা ৫৮ পয়সা।

এসইএমএল আইবিবিএল শরিয়াহ ফান্ড প্রথম দুই প্রান্তিকে ইউনিটপ্রতি আয় করে এক টাকা ৫৮ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে আয় হয় আরও ২৩ পয়সা। সব মিলিয়ে ইউনিটপ্রতি আয় দাঁড়ায় এক টাকা ৮১ পয়সা।

এসইএমএল লেকচার ইক্যুইটি ফান্ড দুই প্রান্তিকে ইউনিট প্রতি আয় করে এক টাকা ৭০ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে আয় হয় আরও ৩৯ পয়সা। সব মিলিয়ে ইউনিটপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে দুই টাকা ১৪ পয়সা।

ট্রাস্ট ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড বছরের প্রথম ছয় মাসে ইউনিটপ্রতি আয় করে এক টাকা ৯১ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে লোকসান দিয়েছে ৮ পয়সা। নয় মাসে আয় দাঁড়িয়েছে এক টাকা ৮৩ পয়সা।

১২ মিউচুয়াল ফান্ডের লভ্যাংশ ঘোষণা

লোকসানে দুটি

জুনে অর্থবছর শেষ হয়, এমন দুটি ফান্ড নয় মাসে মাসে এক হাজার তিনশ পয়েন্ট সূচক বাড়ার পরেও লোকসানে আছে ।

এর মধ্যে গ্রিন ডেল্টা মিউচ্যুয়াল ফান্ড প্রথম ছয় মাসে ইউনিটপ্রতি ৬৩ পয়সা আর পরের তিন মাস লোকসান করে ৩৯ পয়সা। সব মিলিয়ে বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে ইউনিটপ্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে এক টাকা দুই পয়সা।

ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড বছরের প্রথম দুই প্রান্তিকে ইউনিটপ্রতি ৫৬ পয়সা আর তৃতীয় প্রান্তিকে লোকসান দেয় ৪৩ পয়সা। সব মিলিয়ে ‍তিন প্রান্তিকে লোকসান দাঁড়িয়েছে ইউনিটপ্রতি ৯৯ পয়সা।

দ্বিতীয় প্রান্তিক যে ফান্ডের

সেপ্টেম্বরে অর্থবছর শেষ হয় এমন ফান্ড এল আর গ্লোবার বাংলাদেশ ফান্ড ওয়ানের। মার্চে দ্বিতীয় প্রান্তিক শেষে এই ফান্ডের আয় দাঁড়িয়েছে এক টাকা ৩২ পয়সা। এর মধ্যে গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সূচক কমলেও তারা আয় করেছে ৮৬ পয়সা।

ভ্যানগার্ড এএমএল বিডি ফাইনান্স মিউচ্যুয়াল ফান্ডেরও দ্বিতীয় প্রান্তিক ঘোষণা হয়েছে মার্চে। এই প্রান্তিকে তারা ইউনিটপ্রতি ১৪ পয়সা লোকসান দিলেও ছয় মাস শেষে ইউনিটপ্রতি ৯৩ পয়সা মুনাফায় আছে। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরে চাঙ্গা বাজারে এই ফান্ডটি ইউনিটপ্রতি আয় করে এক টাকা ৮ পয়সা।

প্রথম প্রান্তিক যে তিনটির

এনসিসিবিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ান মন্দা বাজারেও ইউনিটপ্রতি ৩৩ পয়সা আয় করেছে। এই ফান্ডটি গত ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরে ইউনিটপ্রতি আয় করে এক টাকা ১২ পয়সা। আর লভ্যাংশ দিয়েছে সাড়ে ৭২ পয়সা করে।

প্রাইম ফাইনান্স ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে আয় ইউনিটপ্রতি আয় করেছে ২৮ পয়সা। গত ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরে ইউনিটপ্রতি ৭৭ পয়সা আয় করে লভ্যাংশ দিয়েছে ৭০ পয়সা।

ভ্যানগার্ড এএমএল রূপালী ব্যাংক ব্যালান্স ফান্ড চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত লোকসান দিয়েছে ৯ পয়সা। এই ফান্ডটি গত ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরে আয় করে এক টাকা ৬৮ পয়সা। যদিও আগের বছর লোকসান ছিল এক টাকা ৮০ পয়সা।

মার্চে লভ্যাংশ ঘোষণা যে দুটির

দুটি ফান্ডের অর্থবছর শেষ হয়েছে গত মার্চে। দুটিই এবার ইতিহাসের সর্বোচ্চ আয় করেছে।

এর মধ্যে এআইবিএল ফার্স্ট ইসলামী মিউচ্যুয়াল ফান্ড এক টাকা ৮৩ পয়সা আয় করে ইউনিট প্রতি এক টাকা সাড়ে ২২ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আগের বছর ইউনিটপ্রতি ৬২ পয়সা লোকসানের কারণে কোনো লভ্যাংশ দেয়নি ফান্ডটি।

এমবিএল ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিটপ্রতি এক টাকা ৯৫ পয়সা মুনাফা করে এবার লভ্যাংশ দিয়েছে এক টাকা ১৫ পয়সা। গত বছর ইউনিটপ্রতি ৯৭ পয়সা লোকসানের কারণে তারা কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি।


আরো