টিকা নিয়ে তো শুধু আশার বাণী শুনছি

অনলাইন ডেস্ক, আউটলুকবাংলা ডটকম

কভিড-১৯ টিকা সংগ্রহের বিষয়ে সরকারের তৎপরতা এখনও অস্পষ্ট দেখছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের। গতকাল জাতীয় সংসদে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় তিনি বলেন, ‘টিকা কোত্থেকে কীভাবে আসবে, তার শুধু আশার বাণী শুনতে পাচ্ছি। নিশ্চিতভাবে কবে কোথা থেকে আসবে সেই তথ্য পাচ্ছি না। সরকারের এই বিষয়টি স্পষ্ট করা প্রয়োজন।’

কভিড মহামারিকালে টিকা প্রয়োগ করে বিভিন্ন দেশ যখন স্বাভাবিক জীবনযাপনের দিকে যাচ্ছে, তখন বাংলাদেশের পরিস্থিতি অনিশ্চয়তার দিকে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সরকারের টিকাদান পরিকল্পনার সমালোচনা করে জিএম কাদের বলেন, ‘আমাদের দেশে সরকার টিকা প্রদানে যে পরিকল্পনার কথা বলেছে, তাদের দেশের ৮০ শতাংশ মানুষকে এক ডোজ টিকা দিতে পাঁচ বছর লাগবে। দুই ডোজ দিতে ১০ বছর লাগবে। এ পরিকল্পনায় এগুলে ১০ বছরে দেশের অর্থনীতি কী হবে তা বুঝতে পারছি না।’

স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি স্বাস্থ্য খাতে কমপক্ষে জিডিপির দুই শতাংশ বরাদ্দ দরকার। স্বাস্থ্য খাত শক্তিশালী হলে কভিড নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। কভিড নিয়ন্ত্রণ হলে আমাদের অর্থনীতি চাঙ্গা হবে।’

সম্পূরক বাজেট নিয়ে যে আলোচনা সংসদে হয়, তা অনেকটা অর্থহীন ঠেকছে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কাছে। কেউ প্রাসঙ্গিক কথাও বলেন না, জবাবদিহি এখানে সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয় না। সম্পূর্ণ বিষয়টি একটি নিয়ম রক্ষার জন্য হয়। এখান থেকে জনগণের কোনো লাভ হয় বলে মনে হয় না।

বিদায়ী অর্থবছরে কোন খাত বরাদ্দের অর্থ খরচ করতে পারেনি, আর কোন খাতে আরও অর্থ লেগেছে, দুটোই মূল্যায়ন করে দেখার পরামর্শ দেন সাবেক মন্ত্রী কাদের। বাজেটে কম বা বেশি খরচ দুটোকেই আমরা অস্বাভাবিক বলতে হবে। বৃদ্ধির প্রস্তাব হলে সেখানে দুর্নীতি রয়েছে কি না বা বাজেট যারা প্রণয়ন করেছে তাদের ত্রুটি ছিল কি না, সেটা দেখা দরকার। অপরদিকে পরিকল্পিতভাবে খরচ কমানোকে মিতব্যয়ী বলতে পারি। কিন্তু খরচ করতে না পারাকে আমরা অদক্ষতা বলতে হবে।

স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘যাদের ধরা হয়েছে, মামলা হয়েছে। কোনো শাস্তি পেয়েছে, এমনটা দেখা যায় না। কোনো না কোনো ফাঁক দিয়ে তারা বের হয়ে যাচ্ছে। তারা পুকুর চুরি করে বের হয়ে যাচ্ছে।’

সাংবাদিকদের সুরক্ষার দাবি জানিয়ে জিএম কাদের বলেন, ‘কিছুদিন আগে একজন সাংবাদিককে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করা হয়েছে। গলা টিপে ধরা হয়েছে, তার নামে মামলা দেয়া হয়েছে। আমরা চাই আইনের শাসন থাকুক, কেউ অপরাধ করলে শাস্তি হোক। কিন্তু যারা গণমাধ্যমে কাজ করে তাদের কিছু দায়িত্ব থাকে। সাংবাদিকতা পিলার অব দ্য স্টেট। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কাজ করে। সেখানে সাংবাদিকদের এইটুকু সুযোগ দায়িত্ব।’

নতুন অর্থবছরের বাজেট নিয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই বাজেটে মধ্যবিত্ত ও নিন্মবিত্তের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়নি। এটা ধনী তোষণের বাজেট। বাজেট অব দ্য বিজনেসম্যান, বাই দ্য বিজনেসম্যান, ফর দ্য বিজনেসম্যান।’

আরো