যে চার হাসপাতালে দেয়া হবে ফাইজারের টিকা

স্টাফ রিপোর্টার, আউটলুকবাংলা ডটকম

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকার ১ লাখ ৬২০ ডোজ ঢাকা মহানগরীর কিছু হাসপাতালে দেয়া হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বুবধার অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র নাজমুল ইসলাম।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে ফাইজারের টিকা দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এই টিকা সংরক্ষণ করতে হয় অনেক বেশি ঠান্ডায়, যে কারণে সব জায়গায় এই টিকা দেয়া সম্ভব নয়।

ডোজগুলো সংরক্ষণ করতে মাইনাস ৬০ ডিগ্রি থেকে মাইনাস ৯০ ডিগ্রি তাপমাত্রার রেফ্রিজারেটর দরকার। ২ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখা যাবে পাঁচ দিন। আর রেফ্রিজারেটরের বাইরে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখা যাবে দুই ঘণ্টা।

নিবন্ধন করে যারা টিকা পাননি, তারা ফাইজারের টিকা পাবেন কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘যারা হাসপাতালে নিবন্ধন করেছেন, তারাই শুধু এই টিকা পাবেন। যারা কোনো কারণে নিবন্ধন করেছেন কিন্তু টিকা নিতে পারেননি, তাদেরও এই টিকা দেয়া হবে।’

বাংলাদেশ গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে গণটিকা শুরু করে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে আসা টিকা দিয়ে। অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত এই টিকা কেনার চুক্তি হয়েছিল ৩ কোটি ৪০ লাখ। তবে রপ্তানিতে ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে ৭০ লাখ দেয়ার পর সিরাম আর টিকা দিতে পারেনি।

এ অবস্থায় অন্য দেশ থেকে টিকা পাওয়ার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। আর ফাইজারের কিছু টিকা পাওয়া গেছে, তবে তা চাহিদার তুলনায় একেবারেই কম।

উৎপাদক প্রতিষ্ঠান দাবি করছে, কার্যকারিতার দিক থেকে ফাইজারের টিকা করোনা প্রতিরোধে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকর। তবে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কোভিশিল্ড, সিনোফার্মের টিকা বিবিআইবিপি-করভি, রাশিয়ার স্পুৎনিক-ভির মতো ফাইজারের টিকাও নিতে হয় দুই ডোজ করে।

ন্যায্যতার ভিত্তিতে বিশ্বের সব দেশে করোনার টিকা নিশ্চিতের প্ল্যাটফর্ম কোভ্যাক্সের মাধ্যমে ফাইজারের এই টিকা দেয়া হয়েছে বাংলাদেশকে।

এই টিকার দাম তুলনামূলক বেশি আর এর কার্যকারিতাও বেশি। এ কারণে এই টিকার প্রতি মানুষের আগ্রহ আছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক আগেই জানিয়েছেন, নিবন্ধন করেও যারা টিকা পাচ্ছেন না, ফাইজারের টিকা প্রয়োগে তাদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হবে শিক্ষার্থীদেরও।