করোনায় বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জের চেয়ে সম্ভাবনা বেশি

স্টাফ রিপোর্টার, আউটলুকবাংলা ডটকম

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, করোনার কারণে গোটা বিশ্বই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। যেকোনো মহামারির সময় চ্যালেঞ্জ আসে। পাশাপাশি সম্ভাবনাও সৃষ্টি হয়। এক্ষেত্রে অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের সামনে সম্ভাবনা বেশি।

বুধবার দুপুরে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এদিন ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ১৬টি প্রস্তাব অনুমোদন হয়েছে। এসব প্রস্তাবে ব্যয় হবে ১ হাজার ৩৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে দেবে ৬৩৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। বিশ্বব্যাংক, এডিবি, ইআইবি ও ডানিডা থেকে ৪০৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা আসবে ঋণ হিসেবে।

বাজেট ঘাটতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নত, উন্নয়নশীল সব দেশের বাজেটেই ঘাটতি আছে। বাংলাদেশের ঘাটতি তুলনামূলকভাবে কম। যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতি জিডিপির ১৮ শতাংশ, ভারতের ১৩ শতাংশ, জাপানের ১২.৯ শতাংশ, চীনের ১১.৮৮ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার ৮ ও ভিয়েতনামের ৬.২ শতাংশ। ফলে ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই। অর্থনীতি ভালো অবস্থায় আছে। রাজস্ব আয় বেড়েছে। রপ্তানি আরও বাড়ছে। রিজার্ভ, রেমিট্যান্সে অনেক অগ্রগতি হয়েছে।’

৫ থেকে ১০ টাকার সার্জিক্যাল মাস্ক ৩৫৬ টাকায় কেনা হয়েছে বলে সংসদীয় কমিটির কাছে ধরা পড়েছে। এগুলো সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে কেনা হয়েছিল। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর কাছে সাংবাদিকরা জানতে চেয়েছিলেন। জবাবে তিনি বলেন, ‘একটি নির্দিষ্ট অংকের বেশি পরিমাণের কেনাকাটা করলে ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন লাগে এবং সেগুলোর পর্যালোচনাও কমিটি করে। স্বাস্থ্য বিভাগের যে কেনাকাটার কথা বলা হচ্ছে সেগুলো তারা নিজেরাই করেছে। ফলে এ বিষয়ে তারাই (স্বাস্থ্য বিভাগ) বলতে পারবে।

আরেক সাংবাদিক জানতে চেয়েছিলেন ভারত এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে পরবর্তী ধাপের টিকা সরবরাহ করেনি। কবে নাগাদ এ টিকা সরবরাহ করবে তারা তাও পরিষ্কার করেনি। এ অবস্থায় অর্থমন্ত্রী যে টাকা ফেরত নেয়ার কথা বলেছিলেন সে বিষয়ে কোনো অগ্রগতি আছে কিনা। জবাবে মুস্তফা কামাল বলেন, ‘চুক্তি কী হয়েছে, কতদিনের জন্য হয়েছে সেগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় জানে। ফলে কোনো অগ্রগতি থাকলে তা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানতে হবে।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ডলার চুরির ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এই চুরি ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকার মামলা করেছে। মামলাগুলো বিচারাধীন। ফলে বিচারাধীন বিষয় নিয়ে কোনো মন্তব্য করব না।’

রাজস্ব সংগ্রহ ব্যবস্থা বিশেষ করে ভ্যাট সংগ্রহ নিয়ে সন্তুষ্ট কিনা জানতে চাইলে মুস্তফা কামালা বলেন, এক্ষেত্রে এনবিআরকে এককভাবে দোষ দেয়া যাবে না। সময় স্বাভাবিক যাচ্ছে না। এর মধ্যে যে কিছু কাজ হয়েছে সেটাই ভালো। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কাজের গতি বাড়বে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মোট রাজস্ব সংগ্রহ বেড়েছে। তবে পদ্ধতিগুলো কাজে লাগানো যায়নি। কিছু ইএফডি মেশিন বসানো হয়েছে। আরও বসানো হবে। এগুলো এনবিআরের কেন্দ্রীয় সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। আশা করা যায়, আগামীতে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’

বাংলাদেশ পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিট পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ) প্রণোদনার টাকা ফেরত দেয়ার জন্য বাড়তি সময় চাচ্ছে। সময় দেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমার কাছে এ বিষয়ে কোনো আবেদন আসেনি। এলে দেখব কী করা যায়।’

আরো