দেশে ‘বাংলা কার’ এর উৎপাদন শুরু

অনলাইন ডেস্ক, আউটলুকবাংলা ডটকম

পোশাক শিল্প ও কৃষি খাতের জন্য বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত হলেও আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে এক সময়ের অনুন্নত এই দেশটিতেও। বর্তমানে নতুন নতুন যানবাহন উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে তাতে করে বাংলাদেশও নিজেকে উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরতে পারে।

নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটিতে হোসেন গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজে তাদের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান বাংলা কার লিমিটেড ইতোমধ্যে গাড়িগুলো প্রস্তুত করেছে। এমনকি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রকার বিপণন কার্যক্রম চালু না করেই গাড়িগুলোর একটি বড় অংশ বিক্রিও করে ফেলেছে। যা ডিএফএসকে গ্লোরি হিসেবে বাজারজাত করা হচ্ছে। বাংলা কার লিমিটেড তাদের নিজস্ব নকশাকৃত গাড়ি এ বছর বাজারজাত করার পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে পিক-আপ ট্রাক, বাস এবং পূর্ণ আকারের কনটেইনার ট্রাকও রয়েছে।

বর্তমানে, বাংলা কার লিমিটেড ইন্দোনেশিয়া থেকে ইঞ্জিন এবং জাপানের ইসুজু কোম্পানি থেকে চ্যাসিস আমদানি করছে।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বাজারজাতকরণে কিছুটা পিছিয়ে পড়লেও চলতি বছরেই প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব অভ্যন্তরীণ ডিজাইনিং টিমের সাথে ১২ টি বিভিন্ন ধরণের যানবাহন তৈরির পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎচালিত গাড়িও রয়েছে।

চীনের অটো প্রস্তুতকারক “ডিএফএসকে” এবং “মা এন্টারপ্রাইজ” সরাসরি বাংলাদেশ থেকে যানবাহন আমদানি করে। সেক্ষেত্রে বাংলা কার লিমিটেড বাংলাদেশে উৎপাদন, বিপণন ও সেবার একটি সমন্বিত ভিত্তি গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলা কারের শোরুমে বিভিন্ন রঙ এবং বিভিন্ন ধরনের গাড়িগুলো প্রদর্শন করা হয়।

অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের আটটি বিভাগের প্রত্যেকটিতে একটি করে এবং পরবর্তীতে পুরো দেশজুড়ে আরও ৩০টি শোরুম চালু করা হবে।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বাংলা কার একটি বিশাল অবদান রাখতে সক্ষম হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

বাংলা কারের বৈশিষ্ট্য

অনেকেই কৌতূহল প্রকাশ করছেন বাংলা কার তার গ্রাহকদের কী ধরনের বৈশিষ্ট্য উপহার দেবে। বাংলা কারে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য পাওয়া যাবে, যা সাধারণত ব্যয়বহুল গাড়িতে পাওয়া যায়।

গাড়িগুলো ডিএফএসকে গ্লোরি মডেলভিত্তিক, যা ইতোমধ্যে বাজারে রয়েছে। অভ্যন্তরীণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে গাড়িতে ১০০+ ভয়েস কমান্ডসহ একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন ভার্চুয়াল সহকারী রয়েছে।

মাল্টিমিডিয়া কনসোল কন্ট্রোলার দ্বারা চালিত বিনোদনের জন্য একটি ৯ইঞ্চি পরিমাপের বৃহত এবং বর্ধিত ইন্টারফেসের ইনফোটেইনমেন্ট ডিসপ্লে, সহজ সংযোগের জন্য একটি নেভিগেশন সিস্টেম এবং ইউএসবি পোর্ট স্থাপন করা রয়েছে।

সাত আসনবিশিষ্ট গাড়িতে প্রথম এবং দ্বিতীয় সারিতে পা রাখার যথেষ্ট জায়গা রয়েছে। তবে, তৃতীয় সারিটি শিশুদের জন্য স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবহারযোগ্য। এসইউভি একটি সমৃদ্ধ অডিও সিস্টেম একটি আনন্দদায়ক যাত্রার অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করে।

এছাড়া গতিশীল ৩৬০ ডিগ্রি পার্কিং ক্যামেরাসহ একটি টায়ার প্রেসার মনিটরিং সিস্টেম এবং পার্কিং সেন্সরও গাড়িতে রয়েছে।

বাইরের কথা বললে, দুই স্তরবিশিষ্ট প্যানোরামিক সানরুফ আছে, যা গাড়ির অভ্যন্তরকে বড় করে ট্র্যাঙ্কের সুবিধাজনক অ্যাক্সেসের দেয়।

এসইউভির দাম ৩০ লক্ষ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে গাড়ির বিভিন্ন অংশগুলো দেশেই প্রস্তুত করা গেলে দাম উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে পারে।

আরো