বিমানবন্দরে আরটি-পিসিআর মেশিন ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী

মো. কামরুল ইসলাম

জীবনকে বাঁচাতে, জীবিকার সন্ধানে কোটি প্রাণ ছুটে বেড়ায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। করোনা মহামারী সারাবিশ্বের মানুষের মতো বাংলাদেশের মানুষও থমকে গিয়েছিলো। সব কিছু কেমন জানি স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলো। স্বাভাবিক জীবনের খুঁজে সারাবিশ্ব আজ দিগবিদিক অনুসন্ধানে ব্যস্ত। অদৃশ্য শক্তির করোনা ভাইরাস যে কতো শক্তিশালী তা আধুনিক বিশ্বের চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুধাবন করতে পেরেছে।

ক্ষুদ্র করোনা ভাইরাসের কাছে আমরা কত নস্যি তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এর মাঝেও নিজেদের বাঁচিয়ে রাখার সব রকমের চেষ্টা অব্যাহত আছে। ইতিমধ্যে বিশ্ব থেকে প্রায় ৪১ লক্ষ মানুষের জীবনাবসান ঘটেছে করোনার আক্রমণে। যা খুবই দুঃখজনক। কোটি কোটি মানুষ করোনা আক্রান্ত হয়েছে। অনেকেই শারিরীকভাবে ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য কোথাও যাওয়ার সুযোগ ছিলো না। সারাবিশ্ব লকডাউনের বেড়াজালে আটকে ছিলো।

আস্তে আস্তে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। অদৃশ্য শক্তির করোনা মানুষের কাঁধে ভর করে সারাবিশ্ব ভ্রমণ করে এখন কিছুটা ক্লান্ত পরিশ্রান্ত। যেকোনো সময় আবার ভ্রমণ পিপাসুদের মতো ভ্রমণে বেড়িয়ে পড়তে পারে বিশ্ব ভ্রমণে। ভ্যাকসিন আবিষ্কারের কারনে এখন কিছুটা নির্ভার মনে হচ্ছে সবাইকে। তারপরও সতর্কতা মেনে চলতে হবে। সারাবিশ্বের দেশগুলো নিজের দেশের নাগরিকদের বাঁচিয়ে রাখতে স্বাস্থ্য সতর্কতামূলক নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ব বিভূইয়ে ভ্রমণে সকল দেশের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে সবাইকে।

আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোকে নির্ভর করতে হয় প্রবাসীদের অর্থ উপার্জনের উপর। দেশের প্রবৃদ্ধি নির্ভর করে প্রবাসী শ্রমিকভাইদের পাঠানো বৈদেশিক মূদ্রার উপর। সেখানে প্রবাসীদের বিদেশ ভ্রমণ স্বাভাবিক ও সাবলীল রাখতে কোভিডকালীন সময়ে বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নির্দেশনাগুলো মেনে চলার জন্য চাহিদা অনুযায়ী কোভিড নেগেটিভ সার্টিফিকেট, ভ্যাকসিন সার্টিফিকেট সহ আরো অনেক নির্দেশনা আছে। বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কিংবা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রদত্ত বেশ কিছু নির্দেশনা মেনেও ভ্রমণ করতে হচ্ছে সবাইকে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ বিমানবন্দরে আরটি-পিসিআর মেশিন বসিয়ে ৪ থেকে ৬ ঘন্টার মধ্যে কোভিড টেস্টের নেগেটিভ রেজাল্ট চাচ্ছে। নতুবা আরব আমিরাতে বাংলাদেশীরা প্রবেশ করতে পারছে না, ফলে ছুটিতে আশা প্রবাসীরা নিজের কর্মস্থলে ফিরে যেতে পারছে না। সব দিক বিবেচনা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্বল্পতম সময়ে আরটি-পিসিআর মেশিন বসানোর জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। যার ফলে আমিরাতের লক্ষ লক্ষ প্রবাসীরা আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন। অনেক দেরিতে হলেও সঠিক সিদ্ধান্ত দেয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

২০২০ সালে বাংলাদেশের কিছু উচ্ছিষ্ট ডাক্তার সাবরিনা কিংবা শাহেদ কিংবা তাদের দোসরদের কারনে যখন স্বাস্থ্যখাত নানা প্রশ্নবাণে জর্জরিত তখন এয়ারলাইন্স যাত্রীদের সুরক্ষার জন্য বিমানবন্দরে পিসিআর মেশিন বসানোর দাবী করেছিলাম। দেরিতে হলেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এদিকে সুনজর দিয়েছেন এজন্য আবারো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

শুধুমাত্র কোভিড রিপোর্টের ত্রুটির জন্য দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্নও হয়েছে অনেক সময়। ঢাকা থেকে গুয়াংজু ফ্লাইটে যাতায়াতকারী যাত্রীদের দু’রকম রিপোর্ট থাকায় এয়ারলাইন্সকেও সাসপেন্ড হতে হয়েছে কয়েকবার। ভ্রমণ করার পূর্বে ৭২ ঘন্টার মধ্যে টেস্টের রিপোর্ট নেগেটিভ থাকলেও ট্রাভেল করার পর গুয়াংজুতে পুনরায় টেস্টে পজিটিভ আসায় জরিমানা হিসেবে এয়ারলাইন্স এর উপর সাসপেনশনের খরগ নেমে আসে। যদি এয়ারপোর্টে আরটি-পিসিআর মেশিন বসিয়ে কোভিড টেস্ট করানো হয়, তাহলে যাত্রীসহ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষগুলো অনেক বেশী নির্ভার থাকবে।

সব কিছুর নির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। এক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হতে দেখিনি। অন্যান্য নীতি নির্ধারকরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পথ অনুসরণ করে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্যান্য খাতের ন্যায় বিধস্ত হয়ে যাওয়া এভিয়েশন এন্ড ট্যুরিজম খাতের অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রাখবেন এটাই প্রত্যাশা করছি।

লেখক: মো. কামরুল ইসলাম, মহাব্যবস্থাপক-জনসংযোগ, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।