হাদিসের আলোকে অহঙ্কার দূর করার উপায়

অহঙ্কার কাকে বলে? কোন কোন বিষয়গুলো অহংকারের মধ্যে পড়ে? অহঙ্কারের কারণ কি? কিভাবে অহঙ্কার দূর করব?

অন্যের চাইতে নিজেকে বড় মনে করাকেই মূলত অহঙ্কার বলে। অহঙ্কার মানব স্বভাবের একটি নিকৃষ্ট একটি অংশ। একে দমন করে সৎকর্মে লাগানোর মধ্যেই মানুষের কৃতিত্ব নির্ভর করে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তির অন্তরে এক সরিষা দানা পরিনাম অহঙ্কার থাকবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।”
[সহীহ মুসলিম, হাদিস: ৯১]

অহঙ্কারের কতিপয় নিদর্শন:

১. অন্যকে নিজের তুলনায় ছোট মনে করা।

২. অন্যের কাছে নিজের বড়ত্ব যাহির করা।

৩. অধীনস্তদের সাথে দুর্ব্যবহার করা।

৪ অন্যের আনুগত্য ও সেবা করাকে নিজের জন্য অপমানজনক মনে করা।

৫ দাম্ভিকতার সাথে সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা।

৬ নিজের ভুলের উপরে জিদ করে অটল থাকা।

৭. মানুষের সাথে নম্রতা পরিহার করে সর্বদা কঠোর আচরণ করা।

৮. নিজেকে অভাবমুক্ত মনে করা।

৯. জ্ঞান অর্জন না করা।

১০. অন্যের উপদেশ গ্রহণ না করা ইত্যাদি।

অহঙ্কারের কারণসমূহ:

১) জ্ঞানের স্বল্পতা,
২) বংশ মর্যাদা,
৩) পদ মর্যাদা,
৪) ভালর প্রতি হিংসা,
৫) ধন-সম্পদ ,
৬) নেক আমল।

অহঙ্কার দূরীকরণের উপায় সমূহ:

১. নিজের সৃষ্টি নিয়ে ভাবা।

২. মৃত্যুর কথা সর্বদা স্মরণ করা।

৩. হাশরের ময়দানে জবাবদিহিতার ভঁয়ে ভীত থাকা।

৪. আমার প্রত্যেকটি কাজ আল্লাহ্‌ দেখেন এই ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাস রাখা।

৫. গরীব ও ইয়াতিমের সহযোগিতা করা।

৬. অসুস্থকে সেবা প্রদান অথবা সেবা প্রদানে সহযোগিতা করা।

৭. দম্ভভরে পৃথিবীতে পদচারনা করা থেকে নিজেকে বিরত রাখা।

৮. গোপন ও রিয়ামুক্ত আমলে নিজেকে অভ্যস্ত করা।

৯. আল্লাহর ভঁয়ে গোপনে ক্রন্দন করা।

১০. অন্যের সাথে নম্র আচরণ করা।

১১. অন্যের ভুল ক্ষমা করা।

১২. অহঙ্কারবশত: অন্যের সাথে অসদাচরণ করে ফেললে তাঁর কাছে ক্ষমা চেয়ে নেয়া।

১৩. ভুলক্রমে অহংকার প্রকাশ পেলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া।

১৪. অহঙ্কার থেকে মুক্তি পেতে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া।

১৫. অগ্রগামী হয়ে অন্যের আগেই সালাম দেয়া।

আল্লাহ বলেন, “অহঙ্কারের বশবর্তী হয়ে তুমি মানুষকে অবজ্ঞা করোনা এবং পৃথিবীতে গর্বভরে বিচরণ করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ কোন অহঙ্কারকারীকে পছন্দ করেন না।”
[সূরা লুকমান, আয়াত: ১৮]

আল্লাহ আমাদের সবাইকে অহঙ্কার নামক ব্যাধি এবং এর কুফল থেকে সবাইকে রক্ষা করুন।

ইনস্টিটিউট অফ ফ্যামিলি ম্যানেজমেন্ট ডেস্ক