এসএসসি-এইচএসসি’র পরীক্ষা নিয়ে সরকারের একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত

উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির আলাদা মূল্যায়ন সমন্বয় করে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারিত হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জাতীয় শিক্ষাক্রমের রূপরেখা উপস্থাপনের পর দুপুরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী।

এ সময় শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে আবশ্যিক বিষয়ে শিখনকালীন মূল্যায়ন ৩০ শতাংশ এবং সামষ্টিক মূল্যায়ন বা পরীক্ষা হবে ৭০ শতাংশ। পাবলিক পরীক্ষায় ৭০ শতাংশ পরীক্ষা দিতে হবে। প্রায়োগিক বা ঐচ্ছিক বিষয় শিখনকালীন মূল্যায়ন হবে শতভাগ। এছাড়া নৈর্বাচনিক, বিশেষায়িত কাঠামো, প্রকল্পভিত্তিক, ধারণানুযায়ী সামষ্টিক মূল্যায়নের পাশাপাশি প্রকল্পভিত্তিক ও ব্যবহারিক ও অন্যান্য উপায়ে শিখনকালীন মূল্যায়নের সুযোগ থাকবে। সেখানে যে বিভিন্ন অ্যাসাইনমেন্ট হয়, প্রকল্প হয় সেগুলোর মাধ্যমে হবে।’

এইচএসসির চূড়ান্ত পরীক্ষার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পাঠসূচির ওপর প্রতি শিক্ষাবর্ষ শেষে একটি করে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। কারিগরিতে এখন তাই হচ্ছে। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির দুটো পরীক্ষার সমন্বয়ে চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারিত হবে।’

নবম ও দশম শ্রেণিতে বিভাগ থাকছে না

মাধ্যমিক স্তরের নবম ও দশম শ্রেণিতে বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও মানবিক বিষয়ের মতো বিভাজন থাকছে না। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকেই পড়তে হবে ১০টি বিষয়। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা উপস্থাপনের পর দুপুরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘নবম ও দশম শ্রেণির বই আলাদা হয়ে যাবে। কোনও বিভাগ থাকবে না। সব শিক্ষার্থীই ১০টি বিষয় পড়বে। ’

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘নবম ও দশ শ্রেণি আলাদা হয়ে যাবে। আলাদা করে পরীক্ষা হবে। শুধু দশম শ্রেণিতে যা পড়ানো হবে, তার ওপরে ভিত্তি করে এসএসসি ও সমমানের পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

শুধু দশম শ্রেণির কারিকুলামেই এসএসসি পরীক্ষা

এতদিন নবম ও দশম শ্রেণির কারিকুলাম অনুযায়ী এসএসসি ও সমমানের পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতো। পরিমার্জিত কারিকুলামে শুধু দশম শ্রেণিতে যা পড়ানো হবে, তার ওপরে ভিত্তি করে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

প্রেস ব্রিফিংয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানান, পরিমার্জিত কারিকুলামের খসড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুমোদন দিয়েছেন। শ্রেণিকক্ষেই পাঠদান সম্পন্ন করার ব্যবস্থা রেখে পরিমার্জিত কারিকুলাম প্রণয়ন করা হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আগের কারিকুলামে এসএসসির পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতো নবম ও দশম শ্রেণির কারিকুলামে। ২০২৩ সাল থেকে শুরু করা কারিকুলামে শুধু দশম শ্রেণির কারিকুলামেই এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।’

থাকছে না পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষা

২০২৩ সাল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) ও ‍জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা থাকবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি। তবে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা চলমান থাকবে।

প্রাথমিক শিক্ষার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ক্লাস থ্রি পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা হবে না। নতুন প্রস্তাবিত জাতীয় শিক্ষাক্রমে নবম-দশম শ্রেণীতে শিক্ষার্থীদের বিভাজন করা হবে না, কারিগরি শিক্ষা প্রাধান্য পাবে। ২০২৩ সাল থেকে এটি কার্যকর হবে।

তিনি আরো বলেন, এসএসসি পরীক্ষা হবে শুধু দশম শ্রেণীর পাঠ্যক্রমের ওপর। এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল নির্ধারণ হবে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষার ওপর।

তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা বাতিল

গতানুগতিক পরীক্ষা বাদ দিয়ে প্রাথমিকের প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত শিখনকালীন মূল্যায়ন বা ধারাবাহিক মূল্যায়ন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এ তথ্য জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে শিখনকারীর মূল্যায়ন বা ধারাবাহিক মূল্যায়ন হবে শতভাগ। চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান এবং সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ে শিখনকালীন মূল্যায়ন হবে ৬০ শতাংশ। আর সামষ্টিক মূল্যায়ন অর্থাৎ পরীক্ষা হবে ৪০ শতাংশ। ৬০ শতাংশই ধারাবাহিক মূল্যায়ন। শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, ধর্ম শিক্ষা, শিল্প কলা (বিদ্যমান চারু ও কারুকলা) এগুলো শতভাগ ধারাবাহিক মূল্যায়ন হবে।

মাধ্যমিক পর্যায়ের কারিকুলাম বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মাধ্যমিকের ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ের শিখনকালীন মূল্যায়ন ৬০ শতাংশ ও সামষ্টিক মূল্যায়ন (বছর শেষে পরীক্ষা) ৪০ শতাংশ। বাকি বিষয় জীবন ও জীবিকা, তথ্যপ্রযুক্তি, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, ধর্ম শিক্ষা, শিল্প ও সংস্কৃতি (বিদ্যমান বিষয়-চারু ও কারু কলা) শিখনকালীন মূল্যায়ন হবে শতভাগ। আর নবম ও দশম শ্রেণির বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান এবং সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ের শিখনকালীন মূল্যায়ন ৫০ শতাংশ আর সামষ্টিক মূল্যায়ন হবে ৫০ শতাংশ। নবম ও দশম শ্রেণির বাকি বিষয়গুলোর শিখনকালীন মূল্যায়ন হবে শতভাগ।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দশম শ্রেণি শেষে দশম শ্রেণির ওপর পাবলিক পরীক্ষা হবে। আগে তো নবম-দশম মিলে পাবলিক পরীক্ষা হতো। এখন শুধু দশম শ্রেণির কারিকুলাম অনুযায়ী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষাটি হবে। শুধু দশম শ্রেণির যে কারিকুলাম সেটির ওপর হবে।

উচ্চ মাধ্যমিকের কারিকুলাম প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে আবশ্যিক বিষয়ে শিখনকালীন মূল্যায়ন ৩০ শতাংশ এবং সামষ্টিক মূল্যায়ন বা পরীক্ষা হবে ৭০ শতাংশ। পাবলিক পরীক্ষায় ৭০ শতাংশ পরীক্ষা দিতে হবে। প্রয়োগিক বা ঐচ্ছিক বিষয় শিখনকালীন মূল্যায়ন হবে শতভাগ। এছাড়া নৈর্বাচনিক, বিশেষায়িত কাঠামো, প্রকল্পভিত্তিক, ধারণা অনুযায়ী সামষ্টিক মূল্যায়নের পাশাপাশি প্রকল্পভিত্তিক ও ব্যবহারিক ও অন্যান্য উপায়ে শিখনকালীন মূল্যায়নের সুযোগ থাকবে। সেখানে নানা অ্যাসাইনমেন্ট হয়, প্রকল্প হয়, সেগুলোর মাধ্যমে হবে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্যসূচির ওপর বছর শেষে একটি করে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। কারিগরিতে এখন তা-ই হয়। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির দুটো পরীক্ষার সমন্বয়ে চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারিত হবে।

আরো