যে কারণে তিন কোম্পানিকে ফ্রি-ফ্লোট শেয়ার ছাড়তে হচ্ছে

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত তিন কোম্পানিকে আগামী এক বছরের মধ্যে ১০ শতাংশ ফ্রি-ফ্লোট শেয়ার নিশ্চিত করতে চিঠি দিয়েছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। কোম্পানি তিনটি হলো- বেসরকারি খাতের ওয়ালটন হাইটেক, বার্জার পেইন্টস এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আইসিবি। কোম্পানি তিনটি মালিকদের নিজ নামে শেয়ার বিক্রি করে এ শর্ত পরিপালন করতে হবে।

বিএসইসির কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রোববার এ বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে কোম্পানিগুলো চিঠি পেয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সূত্র জানায়, মূলত এই শেয়ার বিক্রি করতে গিয়ে কোম্পানিগুলোর শেয়ারদরে পতন ঠেকাতে এ শর্ত দিয়েছে কমিশন।

ফ্রি-ফ্লোট শেয়ারের অর্থ কী?

ফ্রি-ফ্লোট শেয়ার হলো- তালিকাভুক্ত কোম্পানির ওই শেয়ার, যার মালিকরা পূর্ব কোনো ঘোষণা ছাড়াই তাদের শেয়ার বিক্রি করার অধিকার রাখেন। তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা, পরিচালক এবং প্লেসমেন্ট শেয়ারধারী (নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত) ব্যতীত অন্যদের শেয়ার ফ্রি-ফ্লোট হিসেবে বিবেচিত হয়। লকইন মেয়াদ শেষে প্লেসমেন্ট শেয়ারধারীদের শেয়ারও ফ্রি-ফ্লোট শেয়ারে যোগ হয়।

উল্লেখিত তিন কোম্পানির কোনোটিরই ফ্রি-ফ্লোট শেয়ার ১০ শতাংশ নেই। ওয়ালটনের ঘাটতি রয়েছে মোটের ৯.০৩ শতাংশ। আইসিবির ঘাটতি ৬.৮১ শতাংশ এবং বার্জার পেইন্টসের ৫ শতাংশ।

চিঠিতে তিন কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কমিশনের নির্দেশনা পরিপালন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের নিজেদের শেয়ার বিক্রি করে তাদের ফ্রি-ফ্লোট শেয়ার অন্তত ১০ শতাংশে নিতে হবে।

শেয়ার বিক্রি নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ এক বছর সময় দেয়ার কথা বলেছে বিএসইসি। তবে এক মাসে ১ শতাংশের বেশি শেয়ার বিক্রি করা যাবে না।

মূলত এ শেয়ার বিক্রি করতে গিয়ে কোম্পানিগুলোর শেয়ারদরে পতন ঠেকাতে এ শর্ত দিয়েছে কমিশন। তবে এ শর্ত পরিপালনে কোম্পানিগুলো বাধ্য কিনা, জানতে চাইলে বিএসইসির মুখপাত্র রেজাউল নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি।

গত আগস্ট শেষে ওয়ালটন হাইটেকের উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের মোট শেয়ার ছিল মোটের ৯৯.০৩ শতাংশ। কোম্পানিটির মোট শেয়ার ৩০ কোটি ২৯ লাখ ২৮ হাজার ৩৪৩টি। এ হিসাবে কোম্পানিটির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের ২ কোটি ৭৩ লাখের বেশি শেয়ার বিক্রি করতে হবে। রোববার শেয়ারটির সর্বশেষ লেনদেন মূল্য ছিল ১ হাজার ৪৩৭ টাকা।

বহুজাতিক বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের মোট শেয়ার প্রায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৭৮ হাজার। মালিকপক্ষের কাছে রয়েছে ৯৫ শতাংশ শেয়ার। অর্থাৎ তাদের ৫ শতাংশ বা ২৩ লাখ ১৯ হাজার শেয়ার বিক্রি করতে হবে। রোববার শেয়ারটির বাজারমূল্য ছিল ১ হাজার ৯২১ টাকা।

এ ছাড়া আইসিবির ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ার ৮০ কোটি ৫৮ লাখের বেশি। সরকার এবং উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার মোটের ৯৬.৮১ শতাংশ। অর্থাৎ এদের ৬.৮১ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করতে হবে। রোববার এর সর্বশেষ বাজার মূল্য ১৪২ টাকা।

উল্লেখিত তিন কোম্পানির বাইরে এখন শুধু রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিডি সার্ভিসেস কোম্পানির ১০ শতাংশ ফ্রি-ফ্লোট শেয়ার নেই। এ কোম্পানির অধীনে রয়েছে হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টাল এবং বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র। কোম্পানিটিতে সরকারের শেয়ার মোটের ৯৯.৬৮ শতাংশ। অর্থাৎ ফ্রি-ফ্লোট শেয়ার মাত্র ০.৩২ শতাংশ। বছরের পর বছর লোকসানি এ কোম্পানির শেয়ারের কোনো কেনাবেচা হয় না।

আরো