জাতীয় অর্থনীতিতে ইসলামি ব্যাংকিংয়ের অবদান

ড. মো. গোলাম মোস্তফা

বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বের একটি মধ্যম আয়ের উন্নয়নশীল দেশ। বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত বর্ধনশীল, স্থিতিশীল, মিশ্র ও মুক্তবাজার অর্থনীতি। ১৯৮০ সালের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত কৃষিজাত (পাট ও পাটজাত) পণ্যের ওপর নির্ভরশীল ছিল। এটি বর্তমানে কৃষি নয়, বরং শিল্প ও সেবা খাতের ওপর নির্ভরশীল। দেশের বাইরে থেকে পাঠানো রেমিট্যান্স এবং তৈরি পোশাক রপ্তানি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করছে। ১৯৭৯ সালে তৈরি পোশাকশিল্প থেকে আয় হয়েছিল ৪০ হাজার মার্কিন ডলার, আর ২০২০ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৮০০ কোটি ডলার। বাংলাদেশ ১৯৭৫ সালে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। বর্তমানে ৪৭টি স্বল্পোন্নত দেশ রয়েছে। ২০২১ সালে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় যাওয়ার সুপারিশ করেছে। তবে এলডিসি থেকে বের হতে আরও পাঁচ বছর সময় লাগবে। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সূচনা থেকে সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী জিডিপি প্রতিবছর শতকরা পাঁচ থেকে ছয় শতাংশ হারে বাড়ছে। করোনা মহামারির মধ্যে বিদায়ী অর্থবছরে (২০২০-২১) বাংলাদেশে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ছিল আট দশমিক দুই শতাংশ, কিন্তু প্রাথমিক হিসাবে অর্জিত হয়েছে পাঁচ দশমিক ৪৭ শতাংশ। তবে স্থির মূল্যে এই জিডিপির আকার পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, ৩০ লাখ ১১ হাজার ৬৫ কোটি টাকা। মাথাপিছু আয় দুই হাজার ২২৭ মার্কিন ডলার। ২০২১-২২ অর্থবছরে অবশ্য জিডিপির প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সাত দশমিক দুই শতাংশ। সিপিডির গবেষণায় বলা হয়েছে, করোনা কারণে বেসরকারি খাতে ৬২ শতাংশ মানুষ কাজ হারিয়েছে, যার ফলে এই প্রবৃদ্ধি অর্জিত নাও হতে পারে।

ইসলামি ব্যাংকিংয়ের অবদান

জাতীয় অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে ইসলামি ব্যাংকগুলোর অবদান অপরিসীম। দেশের প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার ৬০ শতাংশের কম ব্যাংকিং সেবার আওতাভুক্ত, বাকি জনশক্তির ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের ৬১ ব্যাংকের ১০টি পূর্ণাঙ্গভাবে এবং ৩৩টি নানা উপায়ে শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে শাখা ব্যাংকিং, উপশাখা ব্যাংকিং, এজেন্ট ব্যাংকিং ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে। বিনিয়োগ বহুমুখীকরণের জন্য ইসলামি ব্যাংকগুলো সময়োপযোগী কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে, যার ফলে দেশব্যাপী ব্যষ্টিক ও সামষ্টিক অর্থনীতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশ্ব আর্থিক মন্দা ও করোনা মহামারির মধ্যেও ইসলামি ব্যাংকগুলো তাদের সাফল্য ধরে রেখেছে।

অর্থনৈতিকভাবে উন্নত দেশগুলো প্রধানত শিল্পকে তাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কৌশল হিসেবে বিবেচনা করে। যদি কোনো দেশ উচ্চহারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে চায়, তাহলে সে দেশকে অবশ্যই শিল্প খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ শিল্প খাতকে প্রাধান্য দিয়ে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সর্বোচ্চ সুফল অর্জন এবং দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য ও বেকারত্ব হ্রাসের লক্ষ্যে ‘নতুন জাতীয় শিল্পনীতি, ২০২১’ প্রণয়ন করছে। এই নীতি অনুযায়ী দেশের সব অঞ্চলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার জন্য কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ আটটি শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। জাতীয় অর্থনীতিতে এই আটটি ব্যাংক যে অবদান রেখেছে, তার একটি চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ইসলামি ব্যাংকগুলো শিল্প খাতে মোট বিনিয়োগ করেছে ১৭,৪১,৭২৫.৪৩ মিলিয়ন টাকা। ২০২০-২১ অর্থবছরের জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান ছিল ৩৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ এবং প্রবৃদ্ধি হয়েছে ছয় দশমিক ১২ শতাংশ।

কভিডের এই মহাসংকটের সময়ে কৃষিই বাংলাদেশের অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে রেখেছে। এই কঠিন সময়ে কৃষি খাতের উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বেড়েছে। কৃষি খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৪০ শতাংশ শ্রমিক নিয়োজিত। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক গবেষণায় দেখা যায়, মহামারিকালে কৃষিতে কর্মসংস্থান বেড়েছে ১৮ শতাংশ। ২০২০-২১ অর্থবছরের জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান ছিল ১৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ। কৃষি খাতে ইসলামি ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ করেছে ৩৬,২৬৯.৩৪ মিলিয়ন টাকা, যার ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে অগ্রগামী ভূমিকায় স্থান করে নিয়েছে ইসলামি ব্যাংকগুলো।

কভিড মহামারির কারণে এখন তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান ভিয়েতনামের পরে। ভিয়েতনামের চেয়ে এগিয়ে যেতে হলে নীতিগতভাবে বাস্তব পদক্ষেপ হিসেবে বৈদেশিক বিনিয়োগের প্রবাহের পথ সুগম করতে হবে এবং বেশকিছু মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ব্যবস্থা করতে হবে। সম্প্রতি প্রকাশ করা ‘ওয়ার্ল্ড ট্রেড স্ট্যাটিস্টিক্যাল রিভিউ, ২০২১’ নামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালে বিশ্বে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির হার ছয় দশমিক তিন শতাংশ দেখানো হয়। ফলস্বরূপ বাংলাদেশের রপ্তানি ও আমদানির গতি বাড়লে আগামী অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেড়ে সাত দশমিক দুই শতাংশ হতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বিশ্বে রপ্তানি আয় অর্জনের ক্ষেত্রে বৃহৎ রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে ২০১৯ সালে বাংলাদেশ ছিল ৪২তম। জাতীয় অর্থনীতিতে অসামান্য অবদান রেখেছে ইসলামি ব্যাংকিংয়ের বৈদেশিক বাণিজ্যে বিনিয়োগ। দেশের আমদানি ও রপ্তানি খাতে মোট বিনিয়োগ যথাক্রমে ৩,০৬,৪৮২.৯২ ও ২,১৯,২৬৪.৫৩ মিলিয়ন টাকা, যা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্ব বহন করে। ইসলামি ব্যাংকগুলো প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স আহরণ করেছে ৮৬,৯৭৩.৯৮ মিলিয়ন টাকা, যা আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সমৃদ্ধি রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ৮৬ লাখের অধিক বাংলাদেশি শ্রমিক বিশ্বের ১৫৭টি দেশে কর্মরত আছে। ২০২০ সালে বিশ্বমন্দা সত্ত্বেও বাংলাদেশের রেমিট্যান্স আয় ছিল দুই হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চার হাজার ৮০০ কোটি ডলার।

বাংলাদেশের জিডিপিতে এসএমই খাতের অবদান ২৫-৩০ শতাংশ। এসএমই কার্যক্রম দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। এ প্রচেষ্টাকে সামনে রেখে ইসলামি ব্যাংকগুলো পৃথক এসএমই বিনিয়োগ বিভাগের মাধ্যমে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালার আলোকে এসএমই পলিসি গাইড লাইন প্রণয়ন এবং সব শাখার মাধ্যমে এসএমই বিনিয়োগ ও সেবা প্রদান করে যাচ্ছে। বিবিএসের তথ্যমতে, এসএমই খাতে মোট বিনিয়োগ ১৯,০৯,৬৯৮.৩০ মিলিয়ন টাকা, যার মধ্যে ইসলামি ব্যাংকিংয়ের এসএমই খাতে মোট বিনিয়োগ ছিল ৪,৮৩,০২০.৯১ মিলিয়ন টাকা (২৫.৩০ শতাংশ)। জাতীয় অর্থনীতিতে নারীদের সম্পৃক্ত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালার আলোকে নারী উদ্যোক্তাদের অগ্রযাত্রায় প্রেরণা দিতে ইসলামি ব্যাংকগুলো ৪২ হাজার ২৭৬ মিলিয়ন টাকার বিনিয়োগ প্রদান করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ২০০৮ সালের ১ জুন ডিওএস সার্কুলার নং ০১ জারি করে সিএসআর খাতে ব্যয় করার জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দিকনির্দেশনা দেয়। তবে এ খাতে ব্যয় করতেই হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে ইসলামি ব্যাংকিংগুলো শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, পরিবেশ ও অন্যান্য খাতে ব্যয় করেছে ২,৬৬১.৭২ মিলিয়ন টাকা। আর্থ-সামাজিক কল্যাণে জাকাত ফান্ড তৈরির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রেখেছে, যার পরিমাণ হলো ১,৩৮০.৫০ মিলিয়ন টাকা। ইসলামি ব্যাংকগুলো সরাসরি জাতীয় কোষাগারে কর, আবগারি শুল্ক ও ভ্যাট বাবদ ৩৬,০৪৩.৮৫ মিলিয়ন টাকা পরিশোধ করে, যা মোট জিডিপির শূন্য দশমিক ১২ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংক বিআরপিডি সার্কুলার নং ০২ অনুযায়ী ২০১১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি গ্রিন ব্যাংকিং নীতিমালা জারি করে। পরিবেশবান্ধব ও টেকসই ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা গ্রিন ব্যাংকিং নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য। ব্যাংকের কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনায় যাতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণ হয়ে না দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করে অর্থায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সেই নির্দেশার আলোকে বাংলাদেশের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ ‘গ্রিন ব্যাংকিং’-এর আওতায় ইসলামি ব্যাংকগুলোর মোট বিনিয়োগ হলো ৪২,৮৯৮.৩১ মিলিয়ন টাকা। কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে আটটি ইসলামি ব্যাংকের মোট জনশক্তি ৩৬ হাজার ৮১৩ জন, যা দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখছে।

উপসংহার

অর্থনীতিতে বাংলাদেশ বর্তমানে ৩৭তম দেশ ও দ্রুত বর্ধনশীল দেশে পঞ্চম। বাংলাদেশ এখন যে ধরনের অর্থনৈতিক বিকাশের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা অব্যাহত থাকলে ২০৩৫ সাল নাগাদ দেশটি হবে বিশ্বের ২৫তম বৃহৎ অর্থনীতি। ২০২০ সালের সূচক অনুযায়ী বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৪১তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। বাংলাদেশ ২০২৪ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যে রূপকল্প নির্ধারণ করেছে। বিশ্বের ছয়শ’র অধিক করেসপনডেন্টস ব্যাংকের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্ক স্থাপন করেছে ইসলামিক ব্যাংকগুলো। বিশ্বের বৃহৎ ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে তহবিল এনে বিনিয়োগ করছে ইসলামি ব্যাংকগুলো। অফশোর ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ইসলামি ব্যাংক বিনিয়োগ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের অবদান এখন অনস্বীকার্য এবং জাতীয় অর্থনীতিতে মোট ব্যাংকিংয়ের অবদান এক-চতুর্থাংশের বেশি। ইমলামি অর্থায়নের উপযোগিতা আজ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। বর্তমানে দেশের আর্থিক খাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে খেলাপি ঋণ, তারল্য ব্যবস্থাপনা ও সুশাসন। অর্থনৈতিক হাতিয়ারগুলোকে সুদক্ষ ব্যবহারের মাধ্যমে জাতীয় আয় বৃদ্ধি এবং উৎপাদন ব্যবস্থায় পরিমাণগত পরিবর্তন করতে ইসলামিক ব্যাংকগুলো জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি বলতে অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোর কোনোরূপ পরিবর্তন ছাড়াই কোনো দেশের জাতীয় উৎপাদন বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে বোঝায় এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন বলতে দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর উন্নয়নসাধন ও মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি করাকে বোঝায়। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির জন্য ইসলামি অর্থব্যবস্থার কাঠামো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ইসলামি আর্থিক নীতিমালা প্রণয়ন অত্যাবশ্যক। দেশের মুদ্রাস্ফীতি ‘জুন, ২০২১’ শেষে পাঁচ দশমিক ৫৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। মুদ্রাস্ফীতির লাগাম টানতে ইসলামি ব্যাংকিং কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। যখন পুঁজিবাদী ও সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা ব্যর্থতার দায়বদ্ধতা নিয়ে বিশ্বের অনেক দেশ থেকে বিদায় নিয়েছে, ঠিক সেই সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শরিয়াহ্ভিত্তিক অর্থব্যবস্থা সফলতার স্বাক্ষর রেখে এগিয়ে যাচ্ছে।

অফিসার, ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড, ইসলামি ব্যাংকিং ডিভিশন।