অনলাইনে গরু কিনে বাণিজ্যমন্ত্রী নিজেও প্রতারিত

একটি ই-কমার্স সাইটে কোরবানির ঈদের জন্য গরু অর্ডার দিয়ে কাঙ্ক্ষিত গরু পাননি বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। বলেছেন, গত বছর কোরবানির ঈদে অনলাইনে একটি গরু অর্ডার করে সে অনুযায়ী তিনি পাননি; পেয়েছেন অন্য একটি গরু।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিযোগিতা কমিশন ও ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত রোববার এক মতবিনিময় সভায় অনলাইনে কেনাকাটা নিয়ে নিজের এই অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে টিপু মুনশি বলেন, ‘প্রথমবার অনলাইনে কোরবানির গরু কিনে আমি নিজেও ভুক্তভোগী হয়েছি। এই কোরবানির আগের কোরবানির ঈদে দেশে প্রথমবারের মতো ডিজিটাল কোরবানির হাট বসে। ওই হাট উদ্বোধনের দিন মন্ত্রী হিসেবে আমাকেও রাখা হয়েছিল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমি একটি কোরবানির গরু কিনলাম। তার আগে আমি জানতে চাইলাম কত দাম? আমাকে জানানো হলো ১ লাখ টাকা। গরু আমি কিনলাম। আগাম পেমেন্ট করলাম।

‘বসে আছি চার-পাঁচ দিন। কোনো খবর নেই। ছয়-সাত দিন পর আমাকে জানাল, সেই গরু আর নেই। বলেছিলাম কী হলো সেটা? ওটা আরেকজন নিয়ে গেছেন। জানতে চাইলাম আমার গরু আরেকজন নিয়ে চলে গেলেন? আপনারা সেটা দিয়ে দিলেন? আমি বললাম, আমি মন্ত্রী। আমারই যদি গরু না থাকে, তাহলে?’

বাণিজ্যমন্ত্রী হেসে বলেন, ‘তিন দিন পর কোম্পানি জানাল, চিন্তা কইরেন না আমরা আপনাকে আরেকটা গরু দিচ্ছি। তারা আরেকটা গরুর ছবি দেখায়; দাম চায় ৮৭ হাজার টাকা।

‘কী বলব। আমি তো তাদের কাছে বন্দি। বলল, বাকি ১৩ হাজার টাকায় আমাকে একটা ছাগল দেবে। সবকিছু তারাই বলল। আর আমি শুনেই যাচ্ছি। শেষ পর্যন্ত তাদের বললাম ওটা কোরবানি করে এক ভাগ আমার বাসায় পাঠিয়ে দাও। বাকি দুই ভাগ বিলি করে দাও। তবে ছাগলটা জ্যান্ত আমাকে পাঠাও।’

সব উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এটা কিন্তু প্রথমবার। দ্বিতীয়বার সমস্যা হয়নি। তখন এ সুযোগটা তাদের দেয়া হয়েছে। ঠিক আছে আমি নিজে ভুক্তভোগী, কিন্তু যদি শুনতাম আমার টাকাও নাই গরুও নাই, তাহলে হয়তো মামলা-টামলা করা যেত।’

নিজের এ অভিজ্ঞতা বলার উদ্দেশ্য নিয়ে টিপু মুনশি বলেন, ‘আমার কথা বলার উদ্দেশ্য হলো ই-কমার্স খাতে যা হয়েছে সেটি প্রথম বলেই ঘটেছে, কিন্তু এ খাতটি খুবই সম্ভাবনাময়। ১০-২০টা খারাপ প্রতিষ্ঠানের জন্য পুরো সেক্টরের উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন না।

‘দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয় হিসেবে এর দায় এড়াতে চাই না বলেই বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অংশীজনদের সঙ্গে বসে আলোচনা করছে। উপায় খোঁজার চেষ্টা করছে। কোথায় কোথায় দুর্বলতা আছে, সেগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করছে। এ জন্য পৃথক আইন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠন নীতিমালা ও বিধিমালা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের কাজ করছে সরকার।’

যৌথ মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান মো. মফিজুল ইসলাম। এ সময় ইআরএফ সভাপতি শারমিন রিনভি ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলামসহ প্রতিযোগিতা কমিশনের সদস্য, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন বাণিজ্যি মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি নতুন প্রতিষ্ঠান। বাণিজ্য ক্ষেত্রে বাজারে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। এটি নির্দিষ্ট আইনের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। এ কমিশনের জনবল এবং সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা আছে। এ কমিশনকে মক্তিশালী করতে সরকার কাজ করছে। এ কমিশন প্রচার মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের উপর ভিত্তি করে স্বপ্রনোদিত ভাবে অনেক বিষয়ে তদন্ত করে এবং ব্যবস্থা গ্রহণ করে যাচ্ছে। পৃথিবীর অনেক দেশেই বাণিজ্য ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে প্রতিযোগিতা কমিশন কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতায় বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন শক্তিশালী হবে।