মশলা খাঁটি কিনা যেভাবে বুঝবেন

বাঙালী রসনাকে তৃপ্ত করতে মশলার উপস্থিতি অনিবার্য। তবে কিনা খাঁটি খাদ্য উপকরণের সাথে খাঁটি মশলার মিলন না ঘটলে খাবারের স্বাদে হেরফের ঘটবে এমনটাই স্বাভাবিক। সচরাচর মাছ, মাংস, তরি-তরকারির ক্ষেত্রে যেমন চেখে দেখার সুযোগ থাকে, মশলা কেনার সময় তার উপায় নেই। মশলার ক্ষেত্রে শুধু পরখ করা যায়। অনেকেই ঠিকভাবে মশলা পরখ করতে জানেন না বলে ভেজাল মশলা কিনে আনেন।

এতে যে খাবারের স্বাদ ও গুণগত মান নষ্ট হয় তাই না, স্বাস্থ্যও বিরাট ঝুঁকির মুখোমুখি হয়। দিনের পর দিন ভেজাল মশলা খেয়ে হয়তো অসুস্থ হচ্ছেন আর চিকিৎসকের শরণাপন্ন হচ্ছেন বারবার। আজ আমরা তিনটি মশলা পরখ করার উপায় নিয়ে আলোচনা করবো৷ বাঙালী রান্নাঘরে এ তিনটি মশলার কদর অনেক। কিন্তু এই মশলাগুলোই অনেকে ঠিকঠাক পরখ করে কিনতে পারেন না। চলুন দেখে নেয়া যাক কোন কোন মশলা।

গোলমরিচ

মাংস, পোলাও, বিরিয়ানি রান্নাতে গোলমরিচ একটি জরুরী মশলা। অনেক সময় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী গোলমরিচের সাথে পেঁপের বীজ মিশিয়ে নেয়। তাহলে বুঝবেন কিভাবে গোলমরিচ ঠিক আছে কি নেই? প্রথমে এক গ্লাস পানিতে কিছু গোলমরিচ ফেলে দিন। গোলমরিচ যদি পানির নিচে তলিয়ে যায় তবে ধরে নিবেন যে মশলা খাঁটি। পেঁপের বীজ থাকলে তা পানিতে ভেসে থাকবে।

সরিষা

সরিষার যে চাহিদা তাই স্বভাবতই তাতে ভেজাল মেশানো হয়৷ সচরাচর সরিষাতে আর্জেমন বীজ মেশানো হয়। আর বীজগুলো এত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র যে সহজে শনাক্ত করাও মুশকিল। কিন্তু আপনি চাইলে খুব সহজেই পরখ করে নিতে পারবেন। প্লেটে সরিষা বীজ রেখে ভালোভাবে বেছে দেখুন। আর্জেমন বীজ কিছুটা মোটা ও খসখসে হয়। অন্যদিকে সরিষা বীজের উপরিভাগ মসৃণ ও কিছুটা চকচকে হয়। সরিষা বীজ ভাঙলে ভেতরটা হলুদ দেখাবে। আর আর্জেমন বীজের ভেতরটা হয় সাদা।

ধনিয়া ও জিরা

ধনিয়া ও জিরার ভেজালটা সত্যিই দুঃখজনকও। এতে মেশানো হয় কাঠের গুঁড়া যা সত্যিই স্বাস্থ্যের জন্যে ক্ষতিকর। কিন্তু ভেজাল শনাক্ত করবেন কিভাবে? এক গ্লাস পানিতে জিরা কিংবা ধনিয়া গুঁড়া মিশিয়ে ঢেলে নিন কিন্তু ঘুটবেন না। মশলা খাঁটি হলে পানি পরিষ্কার থাকবে। কিন্তু মশলায় ভেজাল থাকলে কাঠের গুঁড়া পানির উপর ভেসে থাকবে।

 

আরো