মানুষ কেন বিএনপিকে ভোট দেবে জানালো বিএনপি

আওয়ামী লীগের হাত থেকে বাঁচার জন্যই দেশের মানুষ বিএনপিকে ভোট দেবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন তিনি।

‘বিএনপিকে কেন মানুষ ভোট দেবে’- গতকাল সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন প্রশ্নের উত্তর দেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, দেশের মানুষ এই অবৈধ সরকারের হাত থেকে মুক্তি পেতে চায়। বিএনপি একমাত্র দল যারা দেশের মানুষকে একটু শান্তি দিতে পেরেছিল। এ জন্যই মানুষ বিএনপিকে ভোট দেবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ গত ১২ বছরে দেশের যে অবস্থা তৈরি করেছে, মানুষের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই, জীবিকার কোনো নিরাপত্তা নেই, চারদিকে ভয় আর সন্ত্রাস ছাড়া কিছু নেই। এর ফলে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ ১০ টাকায় চাল খাওয়ানোর কথা বলে ৭০ টাকায় খাওয়াচ্ছে। বিনা পয়সায় সার দেবে বলেছিল, এখন সারের দাম আকাশচুম্বী। এসব কারণেই মানুষ বিএনপিকে ভোট দেবে।

সার্চ কমিটির অভিজ্ঞতা রয়েছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, গত কয়েক বারের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, সার্চ কমিটির নামে দলীয় লোকদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন কমিশন গঠন করেন। আর সেই কমিশন অনেক ক্ষেত্রে সরকারের থেকেও আগ বাড়িয়ে দলীয় ভূমিকা পালন করে। যা কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য নয়। নির্বাচন কমিশন গঠনে সার্চ কমিটি একটা ধোঁকাবাজি ছাড়া আর কিছুই নয়।

তিনি আরও বলেন, একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার প্রয়োজন। এটি আমার কথা নয়, সাবেক নির্বাচন কমিশনারসহ সকলেই বলেছেন। আপনি যতই নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করুন না কেন, সরকার যদি তাদের সঙ্গে সহযোগিতা না করে তাহলে কখনোই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে না।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, পরিষ্কার করে বলছি, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মতো নির্বাচন-নির্বাচন খেলায় জনগণ আর অংশ নেবে না। ২০১৪ সালে ১৫৪ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিল। আর ২০১৮ সালের নির্বাচনে আগের রাতেই ভোট চুরি করে নিয়েছিল আওয়ামী লীগ। এখন তারা (আওয়ামী লীগ) বলছে আগামী সংসদ নির্বাচনে ১৫০টি আসনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। তাহলে হয়ে গেল, ১৫০টি আসন নিয়ে গেলে আর তো কিছু লাগে না।

তিনি আরও বলেন, তারা যদি সত্যিকার অর্থে একটি নির্বাচন চায়, তাহলে আগে সব রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে। তাদের মতামতের ভিত্তিতে একটি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠনের বিষয়ে একমত হতে হবে আওয়ামী লীগকে। তারপর একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে।

সরকারের সঙ্গে সংলাপে বসা প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সংলাপে ছাড় দেওয়ার বিষয়টি পরে আসবে। আগে সরকার বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে বসবে কি না সেটাই বিষয়। এখানে একটাই ইস্যু থাকবে। সেটা হচ্ছে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার। আমরা কিছুই চাই না, শুধু নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার চাই। আমরা তো কোনো অন্যায় দাবি করছি না। এখন এই ইস্যুতে সরকার বসতে না চাইলে কিছু তো করার নেই।

সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী খালেদা জিয়া। এ জন্য তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে আটকে রেখেছেন। তাকে এতো ভয় পান যে, বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে দেন না। তিনি মুক্তি পেলেই জনগণের যে উত্তাল তরঙ্গ সৃষ্টি হবে, তা সামলাতে পারবে না সরকার। এ কারণে তাকে মুক্তি দেন না তারা।

আগামী নির্বাচনও দলীয় সরকারের অধীনে হবে এবং সংবিধানের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই- আওয়ামী লীগ নেতাদের এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, সংবিধান কোনো বাইবেল নয় যে পরিবর্তন করা যাবে না। মানুষের প্রয়োজনেই সংবিধান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার ও শায়রুল কবির খান।