পাপনের ‘৩’ চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ১৩তম সভাপতি হিসেবে আ হ ম মুস্তাফা কামালের মেয়াদ শেষ হয় ২০১২ সালের অক্টোবরে। ১৪তম সভাপতি হিসেবে তখনই দায়িত্ব নেন নাজমুল হাসান পাপন।

তখন ছিলেন সরকার মনোনীত। এরপর ২০১৩-তে নির্বাচন হলেও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি হন তিনি। ২০১৭ তেও একইভাবে আবারো বিসিবির দায়িত্ব পান। তবে এবারের বিসিবি নির্বাচনে তাকে লড়াই করে পরিচালক হতে হয়। গতকাল তিনি টানা তৃতীয়বারের মতো বিসিবি’র গঠনতন্ত্র অনুসারে নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান।

টানা ৯ বছর ধরে বিসিবি’র শীর্ষ পদে থাকা নাজমুল হাসান আবারো ৪ বছরের জন্য বিসিবি’র সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।

তার নাম প্রস্তাব করেন পরিচালক আ জ ম নাসির উদ্দিন। সমর্থক হিসেবে ছিলেন এনায়েত হোসেন সিরাজ ও গাজী গোলাম মুর্তজা পাপ্পা। তার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় পরিচালকদের ভোটে তিনি আগামী ৪ বছর মেয়াদে বিসিবি’র সভাপতি হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হন। নতুনভাবে দায়িত্ব পেয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান এক লক্ষ্য ও তিন চ্যালেঞ্জের কথা।

তিনি বলেন, ‘আজ শর্ট ব্রিফিংয়ে বলেছি অনেক কাজ বাকি। এতদিন অনেক কাজ করেছি এটা মনে করা হবে ভুল। কারণ, এখন আরো কঠিন সময় আসছে। আমাদের প্রথম কাজ হলো শেখ হাসিনা স্টেডিয়াম। এটা আমাদের যতদ্রুত সম্ভব চালু করতে হবে।‘ এছাড়াও গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন ও আঞ্চলিক ক্রীড়া সংস্থা চালু করাও তার প্রধান কাজ বলে জানান।

আর লক্ষ্য হিসেবে ওয়ানডেতে বাংলাদেশ আইসিসির র‌্যাঙ্কিংয়ে পাঁচে দেখ দেখতে চান।
সংবাদ সম্মেলনে এসে শুরুতেই নাজমুল হাসান পাপন শুরুতেই জানার তার বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে লক্ষ্যের কথা।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান যে পরিস্থিতি সেখানে তিন ফরম্যাটের মধ্যে শুধু ওডিআইতে মোটামুটি ভালো। আমরা ভালো তবে ওই রকম দল হইনি যে বলবো আমরা খুব ভালো। মোটামুটি ভালো। আগের চেয়ে নিশিতভাবেই ভালো। সাত নম্বরে এসেছি। দুইটি বিশ্বকাপজয়ী দলের উপরে আছি। শ্রীলঙ্কা এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তারা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

আমাদের পরবর্তীতে টার্গেট অবশ্যই পাঁচে যাওয়া। যেন ঐ জায়গাতে যেতে পারি তার জন্য যে কাজ করতে হবে, যেটা করে আমরা যেতে পারি তাহলে সহজে আমাদেরকে নিচে নামতে হবে না। সামনের টার্গেটই পাঁচ নম্বরে যাওয়া। এজন্য শক্তিশালী অনেক প্রতিপক্ষ আছে তাদের উপরে আমাদের উঠতে হবে।’

কেন বাংলাদেশকে পাঁচে দেখতে চান পাপন। এক বা দুই নাম্বারে নয় কেন! এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘প্রশ্ন করতে পারেন, কেন চার বা তিন নম্বরে না? আমি বিশ্বাস করি যে, এখন যে পরিস্থিতি সেখান থেকে সাত থেকে পাঁচে ওঠাটাই হয়তো সম্ভব। এরপর অন্য লেভেল। এর পরের লেভেলে যেতে হলে যে পরিমাণ কাজ করতে হবে আমরা এখন পর্যন্ত সেই পরিমাণ কাজ করিও নি, আমাদের সেই সুযোগ-সুবিধা ডেভেলাপ হয়নি।

যতই সুযোগ সুবিধা ডেভেলাপ করি না কেন সারা বিশ্বে ক্রিকেট অনেক এগিয়ে গেছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, অন্য দেশও উন্নতি করেছে। ওদের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে গেলে আমাদের আরো অনেক কিছু করতে হবে।’ এছাড়াও আগামী মেয়াদে বড় পরিবর্তন আনতে চান বলেও জানান নাজমুল হাসান। বিশেষ করে তার সামনে তিনটি চ্যালেঞ্জ নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘এতদিন অনেক কাজ করেছি এটা মনে করা হবে ভুল। কারণ এখন আরো কঠিন সময় আসছে। আমাদের প্রথম কাজ হলো শেখ হাসিনা স্টেডিয়াম। এটা আমাদের যতদ্রুত সম্ভব চালু করতে হবে। কারণ আমরা যে আইসিসি ইভেন্টে আবেদন করেছি সেখানে আমাদের এ স্টেডিয়াম দেখানো আছে। নাম্বার টু হল কন্সটিটিউশন, পরিচালকদের বলেছি গঠনতন্ত্রে কোথায় কী পরিবর্তন আনা যায় তা বলতে বলেছি।

পরের বোর্ড মিটিংয়ে তারা পরিবর্তনের মতামত উপস্থাপন করবে। আমার প্রস্তাব হলো আমাদের এখানে এতগুলো ক্লাব পার্টিসিপেট করে অথচ ক্লাবগুলোর ভোট নাই। এমন সব ভোটারের নাম দেখি ক্রিকেটের সঙ্গে যাদের কোনো সম্পর্কই নাই। এখানে একটা পরিবর্তন আসা দরকার। এটা একটা উদাহরণ দিলাম, এরকম আরো আছে।’

এছাড়াও তৃতীয় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বহুদিন থেকে ঝুলে থাকা আঞ্চলিক ক্রীড়া সংস্থা চালু করতে চান বলেও জানান নাজমুল হাসান। তিনি বলেন, ‘ফাইনালি আঞ্চলিক ক্রীড়া সংস্থা তৈরি। এটার সঙ্গেই কাঠামোগত উন্নয়নের কথা এসেছে। ক্রিকেট একাডেমি ইতিমধ্যে এক জায়গায় হয়েছে আরেক জায়গায় হচ্ছে। আর কোথায় কোথায় হবে এটা নিয়ে প্রস্তাব করেছি। আর বয়সভিত্তিকের জন্য ডেডিকেটেড একাডেমি হবে।

এখানে আমি প্রস্তাব রেখেছি যে উন্নত একাডেমি তো কয়েকটা হবে কিন্তু তিনটা থাকবে ডেডিকেটেড। যেমন ব্যাটিংয়ের জন্য একটা থাকবে, পেসারদের জন্য একটা আর স্পিনারদের জন্য একটা। এটা জাতীয় ক্রিকেটারদের জন্য না, ডেভেলপমেন্টের উদ্দেশ্যে। এখানে দেশি হোক বা বিদেশি হোক ডেডিকেটেড কোচ থাকবে। এছাড়া আমাদের খেলার মাঠ দরকার ৮-১০টা, যেখানে সারা বছর খেলা চালাতে পারি। সামনে আরো বেশি খেলাতে চাই। আর এই মাঠগুলো আমরা (বিসিবি) পরিচালনা করবে।’