সাত বছরের মধ্যে বিশ্ববাজারে তেলের দাম সর্বোচ্চ

মহামারি করোনাভাইরাসের ধকল কাটিয়ে তেলের বাজারে এখন চনমনে ভাব। লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বেড়ে বিশ্ববাজারে এখন প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ৮০ ডলারে এসে ঠেকেছে। তেলের দাম সাত বছরের মধ্যে বিশ্ববাজারে এখন সর্বোচ্চ।মূলত গত বছরের নভেম্বর থেকেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পেতে থাকে। এ বছরের জুন থেকে তেলের দাম বাড়ার যে প্রবণতা তা আরোও বৃদ্ধি পায়।২০১৮ সালের অক্টোবরের পর গত জুনে করোনার প্রকোপের মধ্যে প্রথমবারের মতো অপরিশোধিত তেলের ব্যারেল ৭৫ ডলারে উঠে আসে।

গত এক সপ্তাহে তেলের দামে বড় উত্থান হওয়ায় এখন অপরিশোধিত তেলের ব্যারেল ৮০ ডলার স্পর্শ করেছে। এর মাধ্যমে ২০১৪ সালের নভেম্বরের পর আবারও অপরিশোধিত প্রতি তেলের ব্যারেল ৮০ ডলারে পৌঁছেছে। অপরিশোধিত তেলের পাশাপাশি ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল ও হান্টিং অয়েলের দামও সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠেছে।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, অপরিশোধিত তেলের পাশাপাশি ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল ও হান্টিং অয়েলের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। গত এক মাসে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ১৭ শতাংশ। ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম বেড়েছে প্রায় সাড়ে ১৫ শতাংশ। আর হান্টিং অয়েলের দাম বেড়েছে ১৭ শতাংশের ওপরে।

গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ২৯ ডলার বেড়ে ৭৯ দশমিক ৫৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এতে সপ্তাহের ব্যবধানে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে ৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ। আর মাসের ব্যবধানে বেড়েছে ১৬ দশমিক ৮০ শতাংশ।

ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দশমিক ৬৩ ডলার বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৮২ দশমিক ৫০ ডলারে উঠে এসেছে। এতে গত এক সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম বেড়েছে ৪ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। আর মাসের ব্যবধানে বেড়েছে ১৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ।গত এক সপ্তাহে ৩ দশমিক ৮২ শতাংশ বেড়ে প্রতি গ্যালন হান্টিং অয়েলের দাম ২ দশমিক ৪৭ ডলারে উঠে এসেছে। এর মাধ্যমে মাসের ব্যবধানে হান্টিং অয়েলের দাম ১৭ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ বেড়েছে।

করোনাভাইরাসের প্রকোপ ভয়াবহ রূপ নিলে গত বছরের ২০ এপ্রিল বিশ্ববাজারে ইতিহাসের সর্বোচ্চ দরপতনের মধ্যে পড়ে তেল। সেদিন প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ঋণাত্মক ৩৭ ডলারের নিচে নেমে যায়।রেকর্ড এই দরপতনের পরেই অবশ্য তেলের দাম বাড়তে থাকে। এতে রেকর্ড দরপতনের ধকল সামলে গত বছরের বেশিরভাগ সময় প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ৪০ ডলারের মধ্যে থাকে।

তবে পৃথিবীজুড়ে মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়া এবং লিবিয়ার তেল উত্তোলন বৃদ্ধি পাওয়ায় মাঝে বিশ্ববাজারে তেলের বড় দরপতন হয়। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে অপরিশোধিত ও ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ কমে যায়।তবে এই পতনের ধকল কাটিয়ে গত বছরের নভেম্বর থেকে আবার তেলের দাম বাড়তে শুরু করে। অবশ্য প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ৫০ ডলারের নিচে থেকেই ২০২০ সাল শেষ হয়।