আসছে ৮৫০ কোটি টাকার আবর্তনশীল ফান্ড

২০১০ সালে মহাধসের কবলে পড়ে দেশের পুঁজিবাজার। ওই সময় ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ তহবিল গঠন করে কম সুদে ঋণ এবং প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) বিশেষ কোটা সুবিধা দেয় সরকার। এবার সেই তহবিল পুঁজিবাজারের বিশেষ প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য ‘আবর্তনশীল ফান্ড’ হিসেবে রূপান্তরিত হতে যাচ্ছে।

সম্প্রতি এমন একটি প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবর্তনশীল ফান্ডের আকার হবে প্রায় ৮৫০ কোটি টাকা। মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। পুঁজিবাজারে সংকট দেখা দিলে এ ফান্ড থেকে অর্থ ব্যবহার করা যাবে। এটি দেখভাল করবে সরকারি প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)।

আবর্তনশীল ফান্ডের আকার হবে প্রায় ৮৫০ কোটি টাকা। মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। পুঁজিবাজারে সংকট দেখা দিলে এ ফান্ড থেকে অর্থ ব্যবহার করা যাবে। এটি দেখভাল করবে সরকারি প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)
ওই ফান্ড থেকে মাত্র ৪ থেকে ৫ শতাংশ সুদে মার্চেন্ট ব্যাংক, ব্রোকার হাউজ ও আইসিবি নিজে ঋণ নিয়ে ব্যবহার করতে পারবে।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান বলেন, পুঁজিবাজারে দরপতন হলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তারা শেয়ার বিক্রি করে চলে যান। পুঁজিবাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। বিশেষ এ মুহূর্তে শেয়ার কিনে সাপোর্ট দেওয়ার লক্ষ্যে আবর্তনশীল ফান্ড গঠনের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করা হয়। মূলত ২০১০ সালে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য গঠিত তহবিলের অর্থই এ ফান্ডে রূপান্তরিত হবে।

‘শুনেছি ফান্ডের মেয়াদ পাঁচ বছর বাড়ানো হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছে’— যোগ করেন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক।

শুনেছি ফান্ডের মেয়াদ পাঁচ বছর বাড়ানো হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছে

বিএসইসির তথ্য মতে, ২০১০ সালের মহাধসে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের প্রণোদনা হিসেবে ২০১৩ সালে একটি তহবিল গঠন করা হয়। ক্ষতিগ্রস্তদের প্রথম তিন বছর সাত শতাংশ সুদে ঋণ সুবিধা দেওয়া হয়। এরপর আরও তিন দফা সময় বাড়ানো হয়। যার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০২১ সালে।

মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ওই টাকা (তহবিল) পুঁজিবাজারে যাতে ব্যবহার হয় সেই লক্ষ্যে আবর্তনশীল ফান্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অর্থ মন্ত্রণালয় ফান্ডটির মেয়াদ পাঁচ বছর করতে সম্মত হয়েছে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ও বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য সহায়তা তহবিলটির মেয়াদ আরও বৃদ্ধি করা যেত। কারণ, ২০১০ সালে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তারা এখনও ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেননি।

‘তবে, যেহেতু পুঁজিবাজার এখন ঊর্ধ্বমুখী, সুতরাং বিনিয়োগকারীদের বুঝে-শুনে বিনিয়োগ করতে হবে। প্রণোদনার অর্থ এখন যেহেতু পুঁজিবাজারেই বিনিয়োগ হবে, এমন প্রস্তাবও বাজারের জন্য ভালো সিদ্ধান্ত’— বলেন এ অর্থনীতিবিদ।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর অর্থ বিভাগের যুগ্ম সচিব নাহিদ হোসেন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি চিঠি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, পুঁজিবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সহায়তা তহবিল তদারক কমিটি ৯০০ কোটি টাকার তহবিলটি স্থায়ী (পারপাচুয়াল) তহবিল হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার জন্য একটি প্রস্তাব এ বিভাগে পাঠায়। ওই প্রস্তাবের ওপর এ বিভাগের অতিরিক্ত সচিবের (পুঁজিবাজার) সভাপতিত্বে গত ১৭ আগস্ট একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় পুঁজিবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সহায়তা তহবিলকে আবর্তনশীল ফান্ড বা পারপাচুয়াল হিসেবে পাঁচ বছর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভার এ সিদ্ধান্তের বিভাগীয় মতামত দিতে অনুরোধ করা হলো।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক ও সাবেক সভাপতি শাকিল রিজভী বলেন, ধসের ১০-১১ বছর পর ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার আর কিছু নেই। ফলে সরকার সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছে। ফান্ডটি যদি সঠিকভাবে ব্যবহার হয় তাহলে বাজার স্থিতিশীল রাখতে এটি সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালের মহাধসে পুঁজিবাজারের প্রায় ১৯ লাখ বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাদের মধ্যে ৮ থেকে ১০ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী ছিলেন। ওই বিনিয়োগকারীদের চার ভাগের এক ভাগ আইসিবি ও ব্রোকার হাউজগুলোর মাধ্যমে কম সুদে ঋণ নিয়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেন। ঋণ নিয়ে ঋণের অর্থও তারা ওই তহবিলে জমা দেন।

এছাড়া প্রাথমিক গণপ্রস্তাবেও (আইপিও) ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য ২০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়। আইপিওর ওই কোটার মেয়াদ শেষ হয়েছে চলতি বছরের ৩১ জুলাই। সূত্র: ঢাকা পোস্ট।

আরো