গ্রাহক পেলেও সেবায় পিছিয়ে টেলিটক

সবার আগে পরীক্ষামূলক ফাইভজি সেবা চালু করতে যাচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটক। তবে ফোরজি চালু থাকলেও প্রকৃত সেবা থেকে বঞ্চিত গ্রাহকরা। রাজধানীসহ হাতেগোনা কয়েকটি জেলায় টেলিটকের নেটওয়ার্ক পেলেও এখনও অনেক জেলা-উপজেলায় আলোর মুখ দেখেনি টেলিটক নেটওয়ার্ক। অন্যদিকে টেলিটকে রিচার্জ করতে ডিজিটাল এ সময় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে গ্রাহকদের।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের সেবরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো মুনাফা করলেও টেলিটককে মূলধন ওঠাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। দুর্বল মার্কেটিং ও দক্ষ লোকের অভাবে প্রতিষ্ঠানটি আলোর মুখ দেখছে না। পর্যাপ্ত রিচার্জ পয়েন্ট নেই, টেলিটক কেবল শিক্ষার্থীদের চাকরির আবেদনের ওপর নির্ভর করে টিকে আছে।

তাদের মতে, দক্ষ মার্কেটিং টিম না থাকা এবং পর্যাপ্ত নেটওয়ার্ক কভারেজ না থাকায় বেসরকারি মোবাইল ফোন অপারেটগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারছে না রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান টেলিটক। কয়েক দফা চেষ্টায় দেশের বিভাগীয় শহরগুলোয় ফোরজি সেবা চালু হওয়ায় গ্রাহক সংখ্যায় কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন এলেও গ্রাহকদের সেবাদানে যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে না।

গ্রাহকরা জানান, সরকারি নানা কাজ ছাড়াও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজে টেলিটক ব্যবহার করতে হয়, যা অন্যান্য অপারেটর থেকে করা যায় না। শিশুদের বিভিন্ন পরীক্ষার ফল, সরকারি চাকরির আবেদন ও চাকরির রেজাল্টসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজে টেলিটক ব্যবহার করা হয়।

বর্তমানে দেশে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। আর প্রতি বছর কয়েক লাখ শিক্ষার্থীর পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। প্রযুক্তির মাধ্যমে এসব রেজাল্ট জানতে হলেও অনলাইনের পাশাপাশি টেলিটক ব্যবহার করতে হয়। অথচ বেশিরভাগ রিটেইলারের দোকানে সব অপারেটরে রিচার্জ করা গেলেও টেলিটকে রিচার্জ করতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

তিন বছর ধরে টেলিটক ব্যবহার করছেন ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী রুবেল আহম্মেদ। সাশ্রয়ী মূল্যে কথা বলার পাশাপাশি সুলভে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধার কারণে টেলিটক ব্যবহার করছেন তিনি। তার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘ফোরজির চেয়ে টেলিটকের থ্রিজি সেবার মান ভালো। ফোরজি চালু হলেও তা কেবল নামেমাত্র। ইন্টারনেট প্যাকেজ ক্রয় করেও ইন্টারনেটের ধীরগতির কারণে তা ব্যবহারে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।’

চাকরির আবেদন ছাড়া এখন আর টেলিটক আগের মতো ব্যবহার করা হয় না বলেও জানান তিনি।

বিটিআরসির প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত ডিসেম্বরে টেলিটকের গ্রাহক ছিল ৪৯ লাখ ২৭ হাজার। চলতি বছর সেপ্টেম্বরে এসে এর গ্রাহক হয়েছে প্রায় ৬৪ লাখ। একই সময় অর্থাৎ ডিসেম্বরে গ্রামীণফোনের গ্রাহক ছিল সাত কোটি ৯০ লাখ। এ সময় রবি আজিয়াটার গ্রাহক ছিল পাঁচ কোটি ৯ লাখ ও বাংলালিংকের তিন কোটি ৫২ লাখ।

আর সেপ্টেম্বরে এসে গ্রামীণফোনের গ্রাহক দাঁড়িয়েছে প্রায় আট কোটি ৩৭ লাখ। রবি আজিয়াটার গ্রাহক দাঁড়িয়েছে প্রায় পাঁচ কোটি ৩০ লাখ। বাংলালিংকের তিন কোটি ৭০ লাখ।

টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাহাব উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা আগের চেয়ে ভালো। কিছু এলাকায় বা কিছু কিছু সময় একটু নেটওয়ার্ক স্লো থাকে। এটি সব অপারেটরেরই হয়। আমরা দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করতে নতুন করে টাওয়ার নির্মাণে কাজ করছি। একনেক থেকেও নতুন টাওয়ার নির্মাণ প্রজেক্টের জন্য টেলিটক সাড়া পেয়েছে। আমরা দেশের দুর্গম এলাকাগুলোয় আরও ৪০০টির মতো বিটিএস (বেজ ট্রান্সমিশন স্টেশনস) স্থাপন করব। যদিও এটা আরও আগে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। করোনাকালে সবকিছু অফ থাকায় ডিলে হয়েছে। এখন পুরোদমে কাজ চলছে।’