হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ

বিশ্বকাপে ভরাডুবির ব্যর্থতা থামছে না মিরপুরেও! ইতোমধ্যে পাকিস্তানের কাছে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুটি হেরে সিরিজ খুইয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। তবে শেষটা ভালো করতে চায় টাইগাররা। একই সঙ্গে ঘরের মাটিতে হোয়াইটওয়াশও এড়াতে চায় বাংলাদেশ। অন্যদিকে সিরিজ ৩-০ করে জিততে মরিয়া শক্তিশালী পাকিস্তান।

আগামীকাল রবিবার দুপুর দুইটায় মিরপুর শেরে-ই বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের শেষ ম্যাচে বাবর-রিজওয়ানদের মুখোমুখি হবে মাহমুদউল্লাহ বাহিনী। এ ম্যাচেও জয়ের ধারায় ফিরতে ব্যর্থ হলে টি-টোয়েন্টিতে ঘরের মাঠে একাধিক ম্যাচের সিরিজে প্রথমবারের মতো হোয়াইটওয়াশের লজ্জা পাবে টাইগাররা। একই সঙ্গে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ টানা আটটি হারের লজ্জার রেকর্ড নতুন করে গড়বে মাহমুদউল্লাহ বাহিনী।

টানা হারের বৃত্তে থাকা বাংলাদেশকে সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছে হতশ্রী ব্যাটিং। বিশ্বকাপে বাজে শুরুর পর মিরপুরে নিজেদের মাঠেও একই পরিণতি টাইগার ব্যাটারদের। আর সেই খরা কাটাতে নতুন করে দলে ডাক পেয়েছেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান পারভেজ হোসেন ইমন। চোটে পড়া মোস্তাফিজের বদলি হিসেবে দলে ঢুকেছে কামরুল ইসলাম রাব্বি।

সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের চেয়েও বাজে ব্যাটিং প্রদর্শনী দেখিয়েছিলো বাংলাদেশি ব্যাটাররা। আর ফল সেই একই- হার। এবার হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লক্ষ্যে নামবে টাইগাররা। এর আগে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি হেরে যাওয়ার পর টাইগার অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ হারের দায় চাপিয়েছিলেন ব্যাটসম্যানদের ওপর।

দলে নতুন করে ডাক পেয়েছেন পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বি।তিনি বলেছিলেন, ‘শেষ পাঁচ-ছয় মাস আমাদের বোলিং আক্রমণ দারুণ করছে। পেসার ও স্পিনাররা সমানতালে পারফর্ম করছে। কিন্তু আমাদের ব্যাটাররাই ভালো কিছু করতে পারছে না।’

অবশ্য সফরকারী পাকিস্তান শেষ ম্যাচেও জয়ের ধারায় থাকতে চায় ফখররা। সামনের দিকের লক্ষ্য পূরণের কথা বলতে গিয়ে শেষ ম্যাচে দুর্দান্ত ব্যাট করা ফখর জামান বলেছেন, ‘দেশের বাইরে খেললে জয় সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চেষ্টা করব তৃতীয় ম্যাচ জিততে এবং ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ শেষ করতে।’

বাংলাদেশ শেষ দুই ম্যাচে অপরিবর্তিত রেখেছিল তাদের একাদশ। তবে শেষ ম্যাচে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন আসতে পারে। ইনজুরিতে অনিশ্চিত মোস্তাফিজুর রহমানের জায়গায় খেলতে পারেন কামরুল ইসলাম রাব্বি। দলে ওপেনিংয়ে সাইফের বদলি খেলতে পারেন পারভেজ। এবং একাদশে বাড়তি ব্যাটার রাখতে চাইলে সেখানে শেষ ম্যাচে সুযোগ হতে পারে হার্ডহিটার ব্যাটসম্যান ইয়াসির আলির।

বিশ্বকাপ সহ গেলো এক মাসে টানা সাতটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশ। ২০০৭-২০১০ পর্যন্ত দীর্ঘতম টানা ১২ ম্যাচ হেরেছিলো বাংলাদেশ। আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২০১৬-১৭ সালে টানা আটটি ম্যাচ হেরেছিলো টাইগাররা। কালও যদি হারের বৃত্ত ভাঙতে না পারেন মাহমুদউল্লাহরা তাহলে যৌথভাবে নিজেদের লজ্জার রেকর্ডটা গড়া হবে আরেকবার। এদিকে পাকিস্তানের বিপক্ষে এখনও ১৪টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেললেও বাংলাদেশ জিতেছে মাত্র দুটি। বাকি ১২টি ম্যাচ জিতেছে পাকিস্তান।

আরো