ক্রাইস্টচার্চ-এ বড় হার

নিউজিল্যান্ড সফরের শুরুটা দুর্দান্ত হয়েছিল বাংলাদেশের। তবে মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে সুখে মোড়ানো প্রথম জয়ের স্মৃতি চাপা পড়েছে ক্রাইস্টচার্চ ট্র্যাজেডিতে। একক আধিপত্যে তিন দিনে ম্যাচ জিতে নেয় স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড। অল্প রানে গুটিয়ে যায় টাইগারদের প্রথম ইনিংস। দ্বিতীয় ইনিংসে ফলোঅন এড়ানোর চেষ্টায় আবারো ব্যর্থ হয় ব্যাটাররা।

লিটন দাসের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে প্রতিরোধ গড়তে পারলেও শেষ রক্ষা হয়নি বাংলাদেশের। এক ইনিংস ও ১১৭ রানে লজ্জার হার দেখে সফরকারীরা। নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট হারিয়ে ৫২১ রানে ইনিংস ঘোষণা করেছিল নিউজিল্যান্ড।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১২৬ রানেই গুটিয়ে যায় টাইগারদের প্রথম ইনিংস। ফলোঅনে পড়া বাংলাদেশের ব্যর্থতা সঙ্গী হয় তৃতীয় দিনেও। দ্বিতীয় ইনিংসের প্রথম সেশনে ২ উইকেট খোয়ায় বাংলাদেশ। বিরতি থেকে ফিরে হারায় আরো ৩ উইকেট। ১২৮ রানে ৫ উইকেট পরে যাওয়ায় ইনিংস পরাজয় ছিল সময়ের অপেক্ষা। তবে শেষ সেশনে আলো ছড়ানো ব্যাটিংয়ে আশা জাগান লিটন।

নুরুল হাসানের সঙ্গে তার শতরানের জুটি অপেক্ষায় রাখে নিউজিল্যান্ডকে। আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি হাঁকালেও বাংলাদেশের ইনিংস পরাজয় আটকাতে পারেননি লিটন। দশম উইকেট নিয়ে ২৭৮ রানে বাংলাদেশকে থামান নিউজিল্যান্ডের বিদায়ী টেস্ট ক্রিকেটার রস টেইলর। মঙ্গলবার সাদমান ইসলাম শুরুটা করেন ইতিবাচক। তবে ৪৮ বলে ২১ রান করে ফেরেন কাইল জেমিসনের শিকার হয়ে। লেগসাইডের বলে ফ্লিক করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে টম ব্লান্ডেলের ক্যাচে পরিণত হন তিনি। নাজমুল হোসেন শান্ত ৪ রানে জীবন পান।

এরপর নেইল ওয়াগনারের সঙ্গে জমে ওঠে তার দ্বৈরথ। ওয়াগনারকে হুক-পুলে দুই চার ও একটি ছয় হাঁকানোর পর শর্ট বলে ডিপ ফাইন লেগে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। শান্তর ব্যাট থেকে আসে ২৯ রান। দ্বিতীয় সেশনে সাজঘরে ফেরেন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ নাঈম। প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে আউট হওয়া নাঈম কিছুক্ষণ ধৈর্যের পরিচয় দিলেও টিম সাউদির ফুললেংথের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে ক্যাচ তোলেন, দ্বিতীয় স্লিপে বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে সেটি লুফে নেন ল্যাথাম। ৯৮ বলে নাঈমের সংগ্রহ ২৪ রান। অধিনায়ক মুমিনুল হক একবার রান আউট ও আরেকবার ক্যাচ তুলেও বেঁচে যান। কিন্তু বেশিদূর এগোতে পারেননি।

ওয়াগনারের অফ স্টাম্পের বাইরের ফুললেংথের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে নিজের বিপদ ডেকে আনেন তিনি। প্রথম স্লিপে টেইলরের হাতে ধরা পড়ার আগে আগে করেন ৬৩ বলে ৩৭ রান। মুখোমুখি হওয়া দ্বিতীয় বলে দু’বার বেঁচে যাওয়া ইয়াসিরও শিকার ওয়াগনারের। এবার শর্ট বলে ক্যাচ তোলেন তিনি। ষষ্ঠ উইকেটে প্রতিরোধ গড়েন লিটন-সোহান। চা-বিরতির আগে-পরে এ দুজনের জুটিতে ১২ ওভারের মধ্যে আসে ১৮ বাউন্ডারি। দু’জনের জুটি শতরান ছুঁয়ে ফেলে মাত্র ৯৮ বলে, ১০৫ বলে ওঠে ১০১ রান। এর মাঝে জেমিসনের এক ওভারে ১৭ রানের পর বোল্টের ওভারে আসে ১৬ রান।

জেমিসনকে চার-ছক্কা হাঁকানোর পর বোল্টকে মারা চারটি চারের পথে ৬৯ বলে অর্ধশতক ছুঁয়ে ফেলেন লিটন। ড্যারিল মিচেলের বলে নুরুল ৩৬ রান করে মিড-অফে ওয়াগনারের ক্যাচে পরিণত হলে কিঞ্চিৎ ভাটা পড়ে লিটনের গতিতে। তবে ওয়াগনারকে দুই চার মেরে পৌঁছান নব্বইয়ে। জেমিসনকে একটা চার মেরে ৯৮ রানে যাওয়ার পর ডাবলসে পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় শতক। ১১৪ বলে ১০২ রানের ইনিংসে মারেন ১৪টি চার ও ১টি ছয়। ৩০ বল খেলে মাত্র ৩ রান করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ডাক মারেন পেসার শরীফুল ইসলাম। ৪ রান করেন ইবাদত হোসেন।

১৮ ওভার বল করে ৮২ রানের বিনিময়ে ৪ উইকেট নেন কাইল জেমিসন। ২২ ওভারে ৭৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার নিল ওয়াগনারের। একটি করে উইকেট নেন টিম সাউদি, ড্যারিল মিচেল ও রস টেইলর।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

নিউজিল্যান্ড: ১ম ইনিংস ৫২১/৬ ডিক্লে

বাংলাদেশ: ১২৬ ও বাংলাদেশ ২৭৮ (লিটন ১০২, মুমিনুল ৩৭, সোহান ৩৬, শান্ত ২৯, নাঈম ২৪, সাদমান ২১; জেমিসন ৪/৮২, ওয়াগনার ৩/৭৭)

ফল: নিউজিল্যান্ড ইনিংস ও ১১৭ রানে জয়ী

ম্যাচসেরা: টম ল্যাথাম

সিরিজ: দুই ম্যাচ সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ

সিরিজসেরা: ডেভন কনওয়ে।