‘আমরা চাই সবকিছু স্বাভাবিক চলুক, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন’

দেশে করোনা পরিস্থিতির আবার অবনতি হয়েছে। তবে সরকার চায় সবকিছু স্বাভাবিক রাখতে। এজন্য দেশবাসীকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।বুধবার (১২ জানুয়ারি) সকালে একটি ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান। নিজের সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন সরকারপ্রধান।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকারের ব্যাপক কর্মসূচি ছিল। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে সব ভার্চুয়ালি করা হচ্ছে। এজন্য সবাইকে সরকার ঘোষিত ১১ দফা বিধিনিষেধ মেনে চলার পরামর্শ দেন তিনি।শেখ হাসিনা বলেন, ‘করোনা নতুনভাবে হানা দিয়েছে। সবাই নিয়ম মেনে চলবেন। মাস্ক পরবেন। সবকিছু স্বাভাবিক চলুক আমরা চাই। উন্নয়নের বিভিন্ন কাজ করছি। ফলে আমরা দ্রুত এগিয়ে যাব।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘২০২২ সালে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প আছে আমরা সেগুলো উদ্বোধন করব। দেশের মানুষের জন্য গত ১৩ বছরে আমরা অবকাঠামোগত বিভিন্ন উন্নয়ন করেছি। এটি আমাদের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।’

চারটি প্রকল্পের উদ্বোধন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই চারটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনের মাধ্যমে আমরা তৃণমূল জনগণের কাছে দেওয়া বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছি। যা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখতেন, কল্পনা করতেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর ১৩ বছর পূর্ণ হয়েছে। এই ১৩ বছরে যে আর্থ-সামাজিক উন্নতি আমরা করতে পেরেছি সেটা আমাদের দেশের তৃণমূল মানুষের প্রতি যে প্রতিশ্রুতি ছিল সেটারই বাস্তবায়ন।

ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান

সড়কে দুর্ঘটনা রোধে এবং নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে পথচারীদের ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া দুর্ঘটনা ঘটলেই আইন নিজের হাতে তুলে না নিতে এবং চলাচলের সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার না করার আহ্বান জানান তিনি।

নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে চালক ও পথচারীদের ট্রাফিক আইন মেনে চলার অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যোগাযোগ অবকাঠামোগুলো পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে যা দেশের অর্থনীতিতে গতি আনবে।

রাঙামাটির নানিয়ারচরে চেঙ্গী নদীর ওপর নির্মিত পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘতম সেতুর উদ্বোধন করতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, নানিয়ারচরে পার্বত্য চট্টগ্রামের সবচেয়ে দীর্ঘতম এই সেতু নির্মাণের ফলে শান্তি চুক্তির বাস্তবায়ন আরও একধাপ এগোলো। এতে করে স্থানীয়দের জীবনযাত্রার উন্নয়ন ও উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণে ভূমিকা রাখবে।

প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সেনাপ্রধান এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং চিফ মেজর জেনারেল ইবনে ফজল শায়েকুজ্জামানসহ বিভিন্ন পদস্থ কর্মকর্তারা।অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস। প্রকল্পের স্পট থেকে সরকারি কর্মকর্তা ও উপকারভোগীরাও অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।