ব্যাংকের চেয়ে এগিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ

গেল ডিসেম্বরে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বেড়েছে। শুধু সংখ্যায় নয়, টাকার অঙ্কেও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বেড়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন কারসাজি চক্রের নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগও রয়েছে।

মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ডিসেম্বরে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অ্যাকাউন্ট থেকে নিট অন্তত এক কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি হয়েছে- এমন কোম্পানি ৯১টি। নিট বিক্রি হওয়া সব শেয়ারের সম্ভাব্য বাজারমূল্য ছিল ৯৮৫ কোটি টাকা। বিপরীতে অন্তত এক কোটি টাকার বিনিয়োগ বেড়েছে- এমন কোম্পানি ১৩৫টি। বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় এক হাজার ২৫০ কোটি টাকা।

সার্বিক বৃদ্ধির বিপরীতে ব্যাংক খাত থেকে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ কমেছে। এর সম্ভাব্য বাজারমূল্য ছিল ৩১৩ কোটি টাকা। অবশ্য ডাচ্‌-বাংলায় ৩৪ কোটি এবং উত্তরায় ১৮ কোটি টাকার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বেড়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বীমায় সাকল্যে বেড়েছে যথাক্রমে ৪৬ কোটি ও ৯৬ কোটি টাকার বিনিয়োগ। ওষুধ ও রসায়ন এবং বিবিধ ছাড়া বাকি সব খাতে বিনিয়োগ বেড়েছে। সার্বিকভাবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রভাবও ছিল শেয়ারদরে। গত মাসে ২২২ কোম্পানির দর বেড়েছিল এবং কমেছিল ১৪০টির।

ডিসেম্বর শেষে তালিকাভুক্ত ৩৮২ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ৮৬ হাজার ৯৪ কোটি টাকার মূলধনে প্রাতিষ্ঠানিক অংশ ছিল ১৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ। নভেম্বরের ৮৫ হাজার ৯১৯ কোটি টাকার মূলধনে এ হার ছিল ১৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অনারারি অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, ডিসেম্বর শেষে লভ্যাংশ প্রদানের সময় ঘনিয়ে আসায় ব্যাংকের শেয়ারে প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির কথা। কিন্তু হচ্ছে উল্টো, শেয়ারদরের পতন দেখেও তা বোঝা যাচ্ছে। এর কারণ, এখানকার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা লভ্যাংশকেন্দ্রিক বিনিয়োগ করে না। তারাও জুয়াড়িদের পেছনে ছোটে এবং জুয়ার শেয়ারে বিনিয়োগ করে মুনাফার চেষ্টা করে।

কোথায় বিনিয়োগ বেড়েছে

স্টক এক্সচেঞ্জে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বেড়েছে কনফিডেন্স সিমেন্টের। তাদের প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার বেড়েছে এক কোটি ৯০ লাখ। টাকার অঙ্কে যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য ছিল ২৩২ কোটি টাকা। মোট শেয়ারে প্রাতিষ্ঠানিক অংশ বেড়ে ৩৭ দশমিক ৪৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা নভেম্বর শেষে ছিল ১৩ দশমিক ১৪ শতাংশ। তবে দুই স্টক এক্সচেঞ্জে এই কোম্পানির ৩০ লাখের বেশি শেয়ার কেনাবেচা হয়নি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছিল সোনালী পেপার, কোম্পানিটিতে প্রাতিষ্ঠানিক অংশ মোটের ৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে, শেয়ার সংখ্যায় যা প্রায় সাড়ে ১২ লাখ এবং সম্ভাব্য বাজারমূল্য ছিল ১২০ কোটি টাকা। তৃতীয় সর্বোচ্চ ৮৩ কোটি টাকার বিনিয়োগ বেড়েছে জেনেক্সে। কোম্পানিটিতে প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার ১৮ দশমিক ৬৪ থেকে ২৩ দশমিক ৫২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

টাকার অঙ্কে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এর পরের অবস্থানে ছিল আইডিএলসি, মুন্নু সিরামিক, এসিআই, পিপলস ইন্স্যুরেন্স, ডাচ্‌-বাংলা, বিকন ফার্মা, পাওয়ার গ্রিড, স্কয়ার ফার্মা, সাবমেরিন কেবলস, গ্রামীণফোন, এনভয় ও বিবিএস কেবলস।

কোথায় কমেছে

বেক্সিমকো থেকে প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার কমেছে এক কোটি ৬১ লাখ ২৪ হাজার, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য ছিল ২৪০ কোটি টাকা। নভেম্বর শেষে কোম্পানিটিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ছিল মোটের ২৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ, ডিসেম্বর শেষে নেমেছে ২৬ শতাংশে। ওয়ান ব্যাংক থেকে পাঁচ কোটি ১১ লাখ শেয়ার কমেছে, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য ছিল ৭১ কোটি টাকা। এতে প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার ২৭ দশমিক ১৬ থেকে ২১ দশমিক ৬৯ শতাংশে নেমেছে। ব্র্যাক ব্যাংকে কমেছে এক কোটি চার লাখ ৪১ হাজার, যার সম্ভাব্য মূল্য ছিল ৬০ কোটি টাকা। ব্যাংকটির প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার মোটের ১১ শতাংশ থেকে কমে সোয়া ১০ শতাংশে নেমেছে। পরের চার অবস্থানেও ছিল ব্যাংক। এগুলো হলো প্রিমিয়ার, সাউথইস্ট, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ও আইএফআইসি। প্রিমিয়ার ব্যাংক থেকে কমেছে তিন কোটি ৫৭ লাখ শেয়ার (৫৩ কোটি টাকা), সাউথইস্ট ব্যাংক থেকে দুই কোটি ৬৪ লাখ শেয়ার (৪১ কোটি টাকা), ইউনাইটেড কমার্শিয়াল থেকে দুই কোটি ৫৮ লাখ শেয়ার (৪০ কোটি টাকা এবং আইএফআইসি থেকে কমেছে পৌনে দুই কোটি শেয়ার (৩০ কোটি টাকা)। এর বাইরে লিনডে বিডি, বেক্সিমকো ফার্মা, ফার্স্ট সিকিউরিটি, এনআরবিসি, সিটি জেনারেল, ওরিয়ন ফার্মা থেকে প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার কমেছে। যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য ছিল ২০ থেকে ৩০ কোটি টাকা।

শতাংশের হিসাবে

সর্বাধিক সোয়া ৮ শতাংশ শেয়ার কমেছে সিটি জেনারেল থেকে। ৫ শতাংশের ওপর কমেছে ওরিয়ন ইনফিউশনস, ওয়ান ব্যাংক ও এক্‌মি পেসটিসাইডস থেকে। বিপরীতে কনফিডেন্স সিমেন্টে সর্বাধিক ২৪ শতাংশ বেড়েছে। পিপলস ইন্স্যুরেন্সে সাড়ে ১২ শতাংশ, মুন্নু সিরামিকে ৮ দশমিক ৬৪ এবং ঢাকা ডাইংয়ে প্রায় ৭ শতাংশ বেড়েছে।