এক জমিতেই ৩০ প্রজাতির বাঁশ (ভিডিও)

কয়েক বছর আগেও দেশের প্রায় প্রতিটি গ্রামেই যেখানে সেখানে দেখা যেত বাঁশ বাগান। কিন্তু নানা কারণে দ্রুতই সেসব বাগান অস্তিত্ব হারাচ্ছে। শহরে বাঁশ বাগানের দেখা তো পাওয়া যাবেই না, গ্রাম থেকেও বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে বাগানগুলো।

এমন বাস্তবতায় কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রম। বান্দরবানের লামা উপজেলায় অবস্থিত কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের চত্বরে গড়ে তোলা হয়েছে বাঁশ বাগান। আর এই বাগানের বিশেষত্ব হলো- একটি-দুটি নয়, ৩০ প্রজাতির বাঁশ রয়েছে এই বাগানে।

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সমন্বয়ক রাহুল সরকার বলেন, ‘সংগঠনের পক্ষ থেকে ২০০৭ সালে প্রায় ৮০ শতক জমিতে বাঁশ বাগানটি গড়ে তোলা হয়। প্রথম পর্যায়ে বনবিভাগ থেকে কয়েক প্রজাতির বাঁশ এনে রোপণ করা হয়। পরে দেশের বিভিন্ন এলাকা ও দেশের বাইর থেকে বাঁশ এনে এখানে রোপণ করা হয়। বর্তমানে এই বাগানে ৩০ প্রজাতির বাঁশ রয়েছে।’

কেন এই বাঁশ বাগান

রাহুল সরকার বলেন, ‘বিলুপ্তপ্রায় গাছ সংরক্ষণ আমাদের কোয়ান্টামের গুরুত্বপূর্ণ কাজ। তাই বিভিন্ন প্রজাতির গাছের সঙ্গে বাঁশ বাগানও গড়ে তোলা হয়েছে।’

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের বাঁশ বাগানে প্রবেশ করতেই চোখে পড়বে ‘কোয়ান্টাম ব্যাম্বোরিয়াম’ নামে একটি সাইনবোর্ড। সেখানে লেখা আছে, বনবিভাগের সহযোগিতায় ব্যাম্বোরিয়াম।

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সমন্বয়ক বলেন, ‘অ্যাকুরিয়ামে যেমন বিভিন্ন প্রজাতির মাছ থাকে, তেমনি ব্যাম্বোরিয়ামে অনেক প্রজাতির বাঁশ থাকে।’

যেসব বাঁশ রয়েছে এখানে

ব্যাম্বোরিয়ামে প্রবেশ করতেই দেখা মিলবে সাদা বাঁশের। পাতাগুলো সাদা। তাই হয়তো এটি সাদা বাঁশ নামে পরিচিত।

পাশেই রয়েছে ঘটি বাঁশ। এই বাঁশ দেখলে মনে হবে, অনেকগুলো মাটির হাঁড়ি একটির উপর আরেকটি সাজিয়ে রাখা হয়েছে।

সবচেয়ে আকর্ষণীয় হলো স্বর্ণ বাঁশ। সোনালী রঙের বাঁশটি খুব বেশি লম্বা ও মোটা নয়। সোনালী বর্ণের হওয়ায় দূর থেকে এই বাঁশ খুবই সুন্দর দেখায়।

সবচেয়ে লম্বা ও মোটা ভুদুম বাঁশ। আকাশ ছোয়া এ বাঁশটপাহাড়ি অঞ্চলেই জন্মে।

তেঁতুয়া, থাই, মাকলা, মিতিঙ্গা, তল্লা, বরাক, রেঙ্গুন, ফারুয়া, বেথুয়া, ব্রান্ডিসি, বাইজ্জা, মাকলা, কাঁটা, হেজা, লাঠি, ঘটি, জিগজ্যাগ, বারওয়ারী, বরাক, কনককাইচ, মুলি ও বোম্ব বাঁশ।

বিচিত্র এ বাঁশ বাগানে ঘুরতে আসা দর্শণার্থী আবদুর রহমান জানান, তার বাড়ি ফেনী জেলায়। সমতল ভূমির এ জেলায় তিনি ৩ প্রকারের বাঁশ দেখেছেন। এখানে এক বাগানে ৩০ প্রজাতির বাঁশ দেখে তিনি অভিভূত।

কুমিল্লা থেকে বেড়াতে আসা বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা তাহিবুর রহমান এই বাগান থেকে বিষ্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘সত্যি খুব ভালো সংগ্রহ রয়েছে বাগানটিতে। আশা করি বাগানটি সংরক্ষণের মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্ম বাঁশ সম্পর্কে ব্যাপক ধারণা পাবে।’