কাতার রোড শো স্থগিত করলো বিএসইসি

কাতারের রাজধানী দোহাতে দুই দিনের রোডশো স্থগিত করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উপর চাপ কমাতে সরকারি কর্মকর্তাদের অহেতুক বিদেশ সফর নিষিদ্ধের পর এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম।

তিনি জানান, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে ১৮ই মে কাতারে রোড শোটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কর্মকর্তাদের ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা সমাধানের পর রোড শোর নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হবে।

বর্তমান বিশ্বে চলমান সংকটের মধ্যে করোনা পরবর্তী অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করতে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ স্থগিতের নির্দেশের পর বৃহস্পতিবার বিএসইসি থেকে এমন সিদ্ধান্ত এসেছে।

মোহাম্মদ রেজাউল করিম আরও বলেন, রোড শোতে আমন্ত্রিত অতিথিদের বেশিরভাগই এখনো ভিসা পাননি। কর্মকর্তাদেরও অনেকেই ভিসা পেতে ব্যর্থ হয়েছেন।

এদিকে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে কয়েকজন জানিয়েছেন, ভারী শিডিউলের কারণে তারা রোড শোতে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না।

“দ্য রাইজ অফ বেঙ্গল টাইগার: পটেনশিয়ালস অফ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইন বাংলাদেশ” শিরোনামে মার্সা মালাজ কেম্পিনস্কি, দ্য পার্ল – দোহাতে রোড শোটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সূত্র জানায়, দেশের পুঁজিবাজারকে বিশ্বে তুলে ধরা ও অর্থনীতির ব্র্যান্ডিং করার মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অংশীদারিত্বে এবং বাংলাদেশ ফোরাম কাতার (বিএফকিউ) এর সহযোগিতায় রোড শোটি আয়োজিত হতে যাচ্ছে।

এদিকে গত বছর থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রোড শো ও বিনিয়োগ সম্মেলন আয়োজনের উদ্যোগ নেয় বিএসইসি। দুবাই দিয়ে শুরু করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সুইজারল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্যে অনুরূপ রোড শো আয়োজন করে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এবার কাতারে পঞ্চম রোড শো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

এরপর ধারাবাহিকভাবে সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, জার্মানি, কানাডা, রাশিয়া, ইতালি, হংকং, জাপান, মালয়েশিয়া এবং অন্যান্য দেশে রোড শো করার পরিকল্পনা রয়েছে বিএসইসির।

রোড শোয়ে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাতের শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, বিআইডিএ নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম, বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবায়ত-উল-ইসলামসহ বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ যোগ দেয়ার কথা ছিল।