আছিয়া সি ফুডসকে শোকজ বিএসইসি’র

শেয়ারবাজার থেকে অর্থ উত্তোলনের অনুমোদন পাওয়া আছিয়া সি ফুডস ভবন নির্মাণে অস্বাভাবিক ব্যয় দেখিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের বিকল্প পদ্ধতি কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর অফারের (কিউআইও) মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ উত্তোলন করছে প্রতিষ্ঠানটি।

অভিযোগ সঠিক কি না তা খতিয়ে দেখতে কোম্পানিটিকে শোকজ করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম। তিনি বলেন, আছিয়া সি ফুডস ভবন নির্মাণে অস্বাভাবিক ব্যয় দেখিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। চিঠিটি গতকাল মঙ্গলবার (২১ জুন) পাঠানো হয়েছে। তবে চিঠিতে স্বাক্ষর করা হয়েছে সোমবার।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ভবন তৈরিতে কারসাজি হয়েছে এমন অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে কোম্পানিটিকে ভবন নির্মাণে অস্বাভাবিক ব্যয়ের যৌক্তিকতা তুলে ধরে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, আছিয়া সি ফুডসের ২৭ হাজার ২৩ স্কয়ার ফিটের ভবন রয়েছে। পুরাতন ভবন সত্ত্বেও এটি নির্মাণে (জমি ছাড়া) ১২ কোটি ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮১ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি স্কয়ার ফিট ভবন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৪ হাজার ৪৭২ টাকা। যা কোনভাবেই বাস্তবসম্মত নয়।

এ বিষয়ে আছিয়া সি ফুডসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তারিকুল ইসলাম জহির বলেন, আমাদেরকে কমিশন থেকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। আমরা চিঠির উত্তর দেব। ব্যয় বেশি দেখানোর অভিযোগ সঠিক না। যা বাস্তব তাই দেখানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছর ১০ টাকা মূল্যের এক কোটি ৫০ লাখ শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে এসএমই প্লাটফর্মে কিউআইওর মাধ্যমে আছিয়া সি ফুডসকে ১৫ কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমোদন দেয় বিএসইসি। পুঁজিবাজার থেকে অর্থ উত্তোলনের লক্ষ্যে গত ১৯ জুন থেকে আবেদন নেওয়া শুরু করেছে কোম্পানিটি। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) আবেদন নেওয়ার শেষ দিন।

পুঁজিবাজার থেকে উত্তোলন করা অর্থ কোম্পানিটি যন্ত্রপাতি স্থাপন, ঋণ পরিশোধ এবং ইস্যু ব্যবস্থাপনার খরচ খাতে ব্যয় করবে।