দেশে ফের সামাজিক সংক্রমণ শুরুর ইঙ্গিত

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ তিন সপ্তাহ ধরে ঊর্ধ্বমুখী। টানা ছয় দিন নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৫ শতাংশের বেশি। করোনার এমন ঊর্ধ্বগতি প্রবণতাকে ফের সামাজিক সংক্রমণ শুরুর ইঙ্গিত বলেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, সংক্রমণে গতি এমন থাকলে আগামী সপ্তাহে চতুর্থ ঢেউ প্রবেশ করবে দেশে। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৭ শতাংশের বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত এক দিনে করোনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১১ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। এর আগে ১৬ ফেব্রুয়ারি এই হার ছিল ১২ দশমিক ২ শতাংশ। তখন দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ চলছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৮৭৪ জনের, যা প্রায় চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে আক্রান্তদের মধ্যে গত তিন সপ্তাহে দু’জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এটি কিছুটা হলেও স্বস্তির।

এদিকে, গতকাল যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টারে দু’জনের শরীরে ভাইরাসের ওমিক্রন ধরনের নতুন উপধরন শনাক্ত হয়েছে।
করোনার এই নতুন ধরন শনাক্তের বিষয়ে যবিপ্রবির উপাচার্য ও জিনোম সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন বলেন, এই ধরনটি মানুষের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সহজেই ফাঁকি দিতে সক্ষম। এ জন্য মাস্ক ব্যবহারসহ কঠোরভাবে করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বিকল্প নেই।

আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ও সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোশতাক হোসেন বলেন, সংক্রমণের যে ঊর্ধ্বগতি, তাতে বলা যায় আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই দেশে ফের সামাজিক সংক্রমণ ঢুকবে। প্রথমে ঢাকা এরপর চট্টগ্রাম, ধীরে ধীরে সারাদেশে এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে। নমুনা পরীক্ষা অনেক কম হচ্ছে জানিয়ে এই বিশেষজ্ঞ বলেন, নমুনা পরীক্ষা আরও বাড়াতে হবে। এ ছাড়া যথাসময়ে টিকা নিয়ে নিতে হবে। মাস্ক পরতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সাবেক পরিচালক ডা. বেনজীর আহমেদ বলেন, করোনা সংক্রমণ ও শনাক্তের হার আরও বেশি হবে। কারণ, অনেকের উপসর্গ থাকলেও পরীক্ষা করছেন না। এই ঢেউ ছোট রাখার ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমগীর বলেন, দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে থাকার পর এক সপ্তাহ ধরে যে হারে রোগী শনাক্ত হচ্ছে, এটি চতুর্থ ঢেউয়ের ইঙ্গিত।