৯০ দিনে কোটিপতি একাউন্ট বেড়েছে দেড় হাজারের বেশি

কোভিড মহামারি ও মূল্যস্ফীতির চাপে জনজীবন যখন দুঃসহ তখনো থেমে নেই কোটিপতি বাড়ার সংখ্যা। চলতি বছরের মার্চ মাস শেষে গেল বছরের ডিসেম্বরের তুলনায় কোটি টাকার বেশি আমানত জমা আছে এমন ব্যাংক একাউন্টের সংখ্যা বেড়েছে ১ হাজার ৬২১টি। একই সময়ে মোট কোটিপতি একাউন্ট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৫৯৭টি।

এসব একাউন্টে আমানতের পরিমাণ মার্চ শেষে ৬ লাখ ৬৩ হাজার ৫০৫কোটি টাকা। ডিসেম্বরে জমার পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৫৩ হাজার ৮৫৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে কোটিপতিদের আমানত বেড়েছে ৯ হাজার ৬৪৭কোটি টাকা।

কোটিপতি একাউন্ট ও আমানত বৃদ্ধি প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই সংখ্যা একদিকে যেমন দেশের উন্নয়ন ও আয় বাড়ার প্রমাণ দিচ্ছে অন্যদিকে এটি বৈষম্য বৃদ্ধিরও প্রমাণ।

এ প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, দেশের প্রবৃদ্ধি ভালো আছে। নতুন নতুন কলকারখানা হচ্ছে। আমদানি-রপ্তানি বাড়ছে। এতে মুনাফা বাড়ছে। তাই কোটিপতির সংখ্যাও বাড়ছে। কিন্তু অন্যদিকে দরিদ্র মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে। এটি প্রমাণ করে যে দেশে বৈষম্যও বেড়ে চলেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে দেখা যায়, মোট ব্যাংক একাউন্ট এর তুলনায় কোটিপতিদের একাউন্ট সংখ্যা ১ শতাংশও নয়। কিন্তু এসব একাউন্টে মোট আমনতের প্রায় ৪৪ শতাংশ টাকা জমা আছে।

কোটিপতি একাউন্ট বৃদ্ধি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর কাছে সম্পদ কুক্ষিগত হয়ে দেশে বৈষম্য বাড়ছে এই সংখ্যাগুলো তাই প্রমাণ করে।

এছাড়া বৈশ্বিক কিছু প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, অতি ধনী বৃদ্ধির তালিকায় বাংলাদেশ সবচেয়ে এগিয়ে কোটিপতি একাউন্ট সংখ্যা সেই তথ্যের সত্যতা রিফ্লেক্ট করছে।

২০১০ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত গত ১০ বছরে দেশে ধনকুবেরের (৫০ লাখ ডলারের বেশি সম্পদের অধিকারী) সংখ্যা বেড়েছে গড়ে ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ হারে। যা এই সময়ে সারা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি। বহুজাতিক আর্থিক পরামর্শ দানকারী প্রতিষ্ঠান ওয়েলথ এক্স এর প্রতিবেদনে এই তথ্য ওঠে এসেছিল।

ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, কোটি টাকার ব্যাংক হিসাবের সবগুলোই ব্যক্তি একাউন্ট নয়। এখানে প্রাতিষ্ঠানিক একাউন্টও আছে। সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার কোটি টাকার একাউন্ট আছে। তবে এই সংখ্যা অবশ্যই কোটিপতিদের একটি ধারণা দিয়ে থাকে।

ব্যাংকার্স এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি আনিস এ খান বলেন, এখানে বিভিন্ন ধরনের একাউন্ট থাকলেও কোটিপতির বিষয়ে এখান থেকে আমরা ধারণা পেতে পারি। অর্থনীতি এগিয়ে যাওয়ায়, ব্যবসা বাণিজ্য বৃদ্ধি পাওয়ায় কোটিপতিদের সংখ্যা বাড়ছে বলে তিনি মনে করেন।

মার্চ মাস শেষে ব্যাংকখাতে মোট একাউন্ট সংখ্যা দাড়িয়েছে ১২ দশমিক ৭৩ কোটি এবং এসব একাউন্টে মোট আমানত জমা আছে ১৫ লাখ ১৪ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকা।