পদ্মা সেতুর উদ্বোধনে সুদিন ফেরার আশায় বরগুনাবাসী

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলায় অবস্থিত। এ জেলার এক তৃতীয়াংশ মানুষ পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে মৎস্য বাণিজ্যের সাথে জড়িত। তারা সুদিন ফেরার আশায় পদ্মা সেতু উদ্বোধনের প্রহর গুনছেন।

বরগুনা মৎস্য বিভাগের হিসেব অনুযায়ী জেলার ছয় উপজেলায় নিবন্ধিত প্রায় ৪১ হাজার সমুদ্রগামী জেলে রয়েছেন। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী এদের সংখ্যা অর্ধ লক্ষাধিক। সাগর, নদী থেকে মাছ আহরণসহ স্থানীয়ভাবে মাছ চাষাবাদ ও উৎপাদনের সঙ্গে জেলার এক তৃতীয়াংশ মানুষ পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে জড়িত।

দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালু হলে জেলায় মৎস্য চাষ, উৎপাদন, আহরণ ও বিপননের সহজলভ্যতায় মৎস্যজীবীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন অনেকেই।

তালতলী মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি দুলাল ফরাজি জানান, সেতুটি উদ্বোধন হলে মৎস্য ব্যবসায় আমুল পরিবর্তন আসবে। এর সুফল পাবেন পাইকার থেকে শুরু করে প্রান্তিক জেলে পর্যন্ত। বাড়বে রাজস্ব আয়।

বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরি জানিয়েছেন, দেশে সামুদ্রিক মাছের সব থেকে বড় পাইকারি বাজার বরগুনার পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। এ অবতরণ কেন্দ্রের মাছ সড়ক পথে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। কিন্তু ফেরিঘাটে যানজটের কারণে যথাসময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারায় নষ্ট হতো মাছ। কমে যেতো মাছের দাম।

পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক লে. লুৎফর রহমান জানিয়েছেন, ২০২১-২২ অর্থবছরে এ অবতরণ কেন্দ্রে প্রায় ২৫ হাজার টন সামুদ্রিক মাছ বিক্রি হয়েছে। যার অর্ধেকই ইলিশ। অবতরণ কেন্দ্রে বিক্রি করা মাছের উপর শতকরা ১ দশমিক ২৫ শতাংশ রাজস্ব আদায় করে সরকার। পদ্মা সেতুর মাধ্যমে সড়ক যোগাযোগের অভূতপূর্ব উন্নতির পর মৎস্য বিপননে রাজস্ব আয় বাড়ার পাশাপাশি জেলেদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আমতলী শহরের আড়তদার জাকির হোসেন জানান, শুধু মাছ চালানই নয়, যে সকল মাছ এখানে কম পাওয়া যায়, তা পদ্মাসেতু পাড়ি দিয়ে বরগুনাতে আমদানি করে আমরা আরও লাভবান হতে পারবো।