ভারতের কাছ থেকেও এখন রাশিয়ার তেল কেনা যায়

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তাই ডলারের বিকল্প হিসেবে অন্যান্য মুদ্রা ও ব্যবস্থার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা উচিত। রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার চিন্তাভাবনা চলছে। ফলে বাংলাদেশ যে অঙ্কের পণ্য রাশিয়ায় রপ্তানি করে, ঠিক সেই সমপরিমাণ পণ্য মুদ্রাবিনিময়ের মাধ্যমে আনা যেতে পারে। এর ওপরে যা আনা হবে, সেটা মুদ্রাবিনিময়ের মাধ্যমে করা সম্ভব হবে না। সে ক্ষেত্রে বিকল্প কিছু ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে হবে।

আমাদের রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে। বড় লেনদেন হচ্ছে। ফলে নিছক বাণিজ্যের মধ্যে না থেকে সামগ্রিক অর্থনৈতিক সম্পর্কের আওতায় কিছু করা যায় কি না, তা ভেবে দেখা উচিত।

তাদের কাছ থেকে আমরা ট্রেড ক্রেডিটের আওতায় পণ্য আমদানি করতে পারি, অর্থাৎ আমরা যে পণ্য তাদের কাছ থেকে আমদানি করব, তার মূল্য কয়েক মাস পরে শোধ করা হবে—এমন বন্দোবস্তে যাওয়া। তবে এর মেয়াদ সাধারণত খুব বেশি হয় না। কয়েক মাসের জন্যও তা পাওয়া গেলে মন্দ হয় না। এটা রুবলে হবে না। এতে হয়তো ডলার কিছুটা এদিক-সেদিক করা যাবে।

অন্যদিকে ভারত আমাদের সঙ্গে রুপিতে বাণিজ্য করার প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সমস্যা আরও বেশি। কারণ, তাদের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি আরও বেশি, ৬৫০ কোটি ডলারের মতো।

এ ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য, অর্থাৎ আমরা ভারতে যতটা রপ্তানি করি, ততটাই মুদ্রা বিনিময় করা সম্ভব। কিন্তু তাদের সঙ্গে আমাদের ঘাটতি বেশি বলে খুব বেশি বিনিময় করা সম্ভব নয়। তবে একটা কাজ করা যায়—রাশিয়া ভারতকে ৩০ শতাংশ ছাড়ে তেল বিক্রি করছে বলে জানা যায়। ভারতের বেসরকারি কোম্পানিগুলো এই তেল আমদানি করছে।

এখন আমরা যদি তাদের সঙ্গে ঐকমত্যে আসতে পারি, তারা কিছুটা মুনাফা করে আমাদের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ছাড়েও যদি তেল দেয়, তাহলে আমাদের কিছু ডলার বেঁচে যাবে। এতে রিজার্ভের ওপর চাপ কমবে।

চীন ও রাশিয়া সুইফটের বিকল্প ব্যবস্থা চালু করেছে।এটি অবশ্য ভিন্ন বিষয়।রাশিয়ার সঙ্গে লেনদেনের ক্ষেত্রে সমস্যা হলে তার দ্বারস্থ হওয়া যায়।এই লেনদেনও ডলারে হয়।কিন্তু এর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে শঙ্কা আছে।ফলে সেটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদের পুরো বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখতে হবে সামগ্রিকভাবে।

মোস্তাফিজুর রহমান, বিশেষ ফেলা, সিপিডি