চালু হলো ইভ্যালির ফেসবুক পেজ

চালু হলো ইভ্যালির ফেসবুক পেজ

ব্যাপক আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির দায়িত্ব মূল মালিক মোহাম্মদ রাসেলের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার খবরে ঢাকার ধানমণ্ডির কোম্পানির কার্যালয়ের সামনে ভিড় করেছেন শত শত গ্রাহক।

এদিকে ফের চালু হয়েছে ইভ্যালির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পেজ। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪৮ মিনিটে পেজটি চালু করা হয়। ‘ধন্যবাদ বাংলাদেশ’ নামে একটি পোস্ট করা হয়োছে।

বৃহস্পতিবার ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ রাসেলের স্ত্রী ও কোম্পানির সাবেক চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন আদালত গঠিত পরিচালনা পর্ষদের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেবেন বলে জানিয়েছেন ওই পর্ষদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবীর মিলন।

সরজমিন ধানমণ্ডিতে ইভ্যালির অফিসের সামনে দেখা গেছে, কার্যালয় খোলার খবর পেয়ে সকাল থেকে সেখানে শত শত পাওনাদার জমায়েত হন। নিজেদের পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ার পাশাপাশি ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ রাসেলের মুক্তির দাবিও জনিয়েছেন তারা।

‘ইভ্যালি মার্চেন্ট অ্যান্ড কনজিউমার কো-অর্ডিনেশন’ কমিটির ব্যানার নিয়ে হাজির হন তারা। ইভ্যালি চালু করার জন্য আদালতকে ধন্যবাদ জানিয়ে তারা ব্যানারও ছাপিয়েছেন।

পরে বিজয় র‍্যালি করেছে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির মার্চেন্টরা। মিছিলে প্রায় দুই শতাধিক মার্চেন্ট অংশগ্রহণ করে। এ সময় ইভ্যালির সদ্য বিদায়ী এমডি মাহবুব কবির মিলনকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় ইভ্যালি মার্চেন্ট অ্যান্ড কনজ্যুমারস কো-অর্ডিনেশন এর আয়োজনে ধানমন্ডির ইভ্যালির কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে মিছিল বের করেন তারা।

সকালে ধানমণ্ডিতে ইভ্যালি কার্যালয়ে অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবীর উপস্থিত ছিলেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, গ্রাহকের টাকা উদ্ধার করার দায়িত্ব আমাদের দেয়া হয়নি। ইভ্যালিতে কেন সমস্যা হয়েছে, কতটা সমস্যা হয়েছে, উত্তরণের উপায় কী এসব বিষয়ে যাচাই-বাছাই করতেই আমাদেরকে বলা হয়েছিল। আমরা চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিয়েছি।

আমি বিশ্বাস করি, প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ পেলে এই প্রতিষ্ঠান আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। ইভ্যালি মার্চেন্ট অ্যান্ড কনজিউমার কো-অর্ডিনেশন কমিটির অন্যতম সমন্বয়ক সাকিব হাসান তাদের পাওনা টাকা উদ্ধারের প্রত্যাশাও করছেন। তিনি বলেন, রাসেল পরিবারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করায় আমরা আশাবাদী। ইভ্যালি ব্যবসা চালাতে পারলে আমাদের টাকাগুলো ধীরে ধীরে উদ্ধার হয়ে আসবে।

তবে আদালত গঠিত পর্ষদের চেয়ারম্যান সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেছেন, গ্রাহকের সাথে প্রতারণা করার জন্যই রাসেল সাহেব ইভ্যালি নামক প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছিলেন। ব্যবসার প্রতিটি স্তরেই তিনি প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছিলেন। এই পরিবারের নেতৃত্বে এ প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের টাকা ফেরত দিতে পারবে বলে আমার মনে হয় না।

উল্লেখ্য, গতবছর বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ইভ্যালির পাঠানো সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির মোট চলতি দায় ছিল তখন ৫৪৩ কোটি টাকা, যার মধ্যে মার্চেন্ট বা পণ্য সরবরাহকারীরা পাবেন ২০৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। আর গ্রাহকদের পাওনা ৩১১ কোটি টাকা।

গ্রাহক ঠকানোর মামলায় ইভ্যালির উদ্যোক্তা রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনকে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যেতে হয়েছিল। শামীমা গত এপ্রিল মাসে জামিনে বের হতে পারলেও এখনও বন্দিই আছেন রাসেল। পরে গত বছরের অক্টোবরে আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারক এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে চেয়ারম্যান করে ইভ্যালির জন্য একটি পর্ষদ গঠন করে দিয়েছিল আদালত।