রিজার্ভ এবার ৩৬ বিলিয়ন ডলারের ঘরে

রিজার্ভ এবার ৩৬ বিলিয়ন ডলারের ঘরে

চলমান ডলার সংকটে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গেছে। গতকাল দিন শেষে রিজার্ভ নেমে দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলারে। গত সোমবার এ রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৭ দশমিক শূন্য আট বিলিয়ন ডলার। ব্যাংকগুলোর চাহিদা মেটাতে নিয়মিত রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যার কারণে রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জানা যায়, ?গত ৮ সেপ্টেম্বর এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নে (আকু) ১৭৩ কোটি ডলার পরিশোধের পর দিন শেষে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক শূন্য ৬ বিলিয়ন ডলারে, যা ৭ সেপ্টেম্বরে ছিল ৩৮ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলার ছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, সাধারণত কোনো দেশের ৩ মাসের আমদানি বিল পরিশোধের জন্য রিজার্ভ থাকলে তা আদর্শ ধরা হয়। আমাদের বর্তমান রিজার্ভ দিয়ে ৫ মাসের বেশি আমদানি বিল পরিশোধ করা সম্ভব। সুতরাং রিজার্ভ নিয়ে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। তিনি বলেন, সরকার আমদানিতে কড়াকড়ি ও কৃচ্ছ্রসাধন নীতি ঘোষণা করছে। এতে আমদানি কমতে শুরু করেছে। আবার রপ্তানি আয় বাড়ছে। পাশাপাশি সরকারের নানা উদ্যোগের ফলে রেমিট্যান্স সংগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। আর করোনার পরে গত দেড় বছরে জনসংখ্যা রপ্তানি বেড়েছে। যার ফলে সামনে রেমিট্যান্স সংগ্রহ আরও বেড়ে যাবে।

জানা যায়, জুলাই মাসের চেয়ে আগস্টে এলসি নিষ্পত্তি কমেছে ২০ শতাংশ। জুলাই মাসে এলসি নিষ্পত্তি হয় ৭৪২ কোটি টাকা। আর আগস্টে ৫৯৩ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করে ২০২০ সালের ২৮ জুলাই। কভিডের মধ্যে তা বাড়তে বাড়তে গত বছরের আগস্টে ৪৮ দশমিক শূন্য ৬ বিলিয়ন ডলারে ওঠে। কভিডপরবর্তী-সময়ে আমদানি ব্যয় অনেক বেড়ে যাওয়ায় এবং প্রবাসী আয় কমে যাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ থেকে প্রতিনিয়ত ডলার বিক্রি করছে। চলতি অর্থবছরে বছরের এখন পর্যন্ত রিজার্ভ থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে ৩০০ কোটি ডলার বিক্রি করে। এর আগের অর্থবছরে পুরো সময়ে বিক্রি করে ৭৬২ কোটি ডলার। গত মে মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলারের দাম ছিল ৮৬ টাকা। সেখান থেকে ধীরে ধীরে তা বাড়িয়ে ৯৬ টাকায় উন্নীত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে ব্যাংকগুলোয় ডলার কেনাবেচা হচ্ছে আরও ১২ টাকা বেশি দামে।

ডলার বাজার স্থিতিশীল করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নানা পদক্ষেপ নিলেও কিছুই কাজে আসেনি। এর ফলে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দাম উঠে ডলারের। আর গত কয়েক মাস ধরে আন্তঃব্যাংক লেনদেন কার্যক্রম অকার্যকর হয়ে পড়ে। তবে ডলার-সংকট কাটাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ও বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) শীর্ষস্থানীয় নেতারা ১১ সেপ্টেম্বর এক সভায় ডলারের সর্বোচ্চ দাম নির্ধারণ করে দেন। এর ফলে আন্তঃব্যাংক কার্যক্রম আবার চালু হয়। এতে প্রবাসী আয় আনতে সর্বোচ্চ ১০৮ টাকা ও রপ্তানি আয়ে ৯৯ টাকা নির্ধারণ করে দেয় ব্যাংকগুলোকে।

এ সিদ্ধান্তের পরও ডলারের দাম নিয়মিত বাড়ছে। গত সোমবার এক ব্যাংক আরেক ব্যাংকের কাছে ডলার বিক্রি করে প্রতি ডলারের দাম নিয়েছে ১০৮ টাকা। আর গত মঙ্গলবার এ দর ছিল ১০২ টাকা ৫৬ পয়সা।